কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)। এ সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাত ও সকালে টেকনাফের দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ঘাট এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।

এসআরবি-১৫ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্প ও ২ বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের একটি যৌথ আভিযানিক দল টেকনাফ থানাধীন শাপলা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান এনে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহের জন্য কয়েকজন কারবারি দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান করছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

তথ্যের ভিত্তিতে ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে দক্ষিণ জালিয়াপাড়া ৪ নম্বর ব্রিজের ১ নম্বর সুইচগেটের পশ্চিম পাশের খালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. ইদ্রিস (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হাকিম ও মৃত সখিনা খাতুনের ছেলে।

অন্যদিকে একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের সদস্যরা বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচ্ছপিয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে মো. রিয়াজ (২৩) এবং নুরুল আলম ও নাছিমা দম্পতির ছেলে আতাউর রহমান (২৪)।

এসআরবি-১৫ জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সংস্থাটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসআরবি-১৫-এর দায়িত্বাধীন এলাকায় ১২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪২৭ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ৩০ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা এবং ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযানে একটি বিদেশি এসএমজি, একটি এলজি, একটি ওয়ান শুটারগান ও ৩৪২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৬ জন অপহৃত ও পাচারকৃত ভিকটিমকে উদ্ধার এবং মোট ১৫৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।

সংস্থাটি জানিয়েছে, টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র, মাদক, অপহরণ ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে এসআরবি-১৫।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!