লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে যখন ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষা, তখনই মাঠের বাইরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ৭ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ উপস্থিতি হিসেবে সামনে আসার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের ভ্রমণ ও আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আগেই জানিয়েছে, মেসিকে দেশের সমর্থকদের সামনে বিদায় জানানোর বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবেই ম্যাচটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও মেসির জন্য নিজ দেশের মাঠে বিদায়ী আয়োজনের কথা জানিয়েছেন।
তবে ম্যাচের আগে আলোচনায় এসেছে আফ্রিকার দুই দল বেনিন ও বুরকিনা ফাসোর সফর-অভিজ্ঞতা। বুরকিনা ফাসোর ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে দীর্ঘ ভ্রমণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ভ্রমণসূচি নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষের কথাও সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত ওই ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর মূল দলের পরিবর্তে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অংশ নেন। ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা ৭-০ গোলে জয় পায়।
এরপর বেনিনের সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিএনের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বেনিন দলের আর্জেন্টিনা পৌঁছাতে প্রায় ২৫ ঘণ্টার ভ্রমণ করতে হয়েছে। দীর্ঘ যাত্রার সময় দলের একজন ভিডিও বিশ্লেষক অসুস্থ হয়ে কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কয়েকজন খেলোয়াড়ও ভ্রমণের ধকলের কারণে সমস্যায় পড়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
ভ্রমণের পাশাপাশি বেনিন দলের আবাসন ও অনুশীলন সুবিধা নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হোটেলের একটি তলায় গরম পানির সমস্যা ছিল। দলের জন্য ব্যবহৃত জিমেও পেশাদার ফুটবল দলের অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছিল না। সেখানে দুটি স্টেশনারি বাইক ও দুটি ট্রেডমিল থাকার কথা বলা হয়েছে। সনা অকেজো থাকার অভিযোগও উঠে আসে।
তবে পরবর্তী আপডেটে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির কথা জানা যায়। বেনিন দলের প্রাথমিক সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গরম পানির সমস্যাও ঠিক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। রান্নার সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থাও স্বাভাবিক করা হয়েছে। ভ্রমণের ধকল কাটিয়ে খেলোয়াড়রা অনুশীলনে ফিরেছেন বলেও জানানো হয়।
এদিকে আর্জেন্টিনার আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক কাঠামো নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনার সাংবাদিক রোমাঁ মোলিনার বক্তব্য উদ্ধৃত করে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের ম্যাচে এএফএ ভ্রমণ ও আবাসনের খরচ বহন করলেও প্রতিপক্ষ দলের ম্যাচ ফি বা টিকিট বিক্রির অংশ নিয়ে আলাদা কাঠামো থাকতে পারে। বেনিন, বুরকিনা ফাসো ও মৌরিতানিয়ার মতো তুলনামূলক ছোট ফেডারেশনের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করলে আর্জেন্টিনার বাণিজ্যিক আয় বাড়তে পারে—এমন দাবিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে এসব আর্থিক দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত এএফএর পক্ষ থেকে অর্থ আত্মসাতের কোনো প্রমাণ স্বীকার করা হয়নি। ফলে ম্যাচ আয়োজনের প্রকৃত আর্থিক চুক্তি ও অর্থ বণ্টনের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন ও বাণিজ্যিক চুক্তির পূর্ণ নথি প্রয়োজন।
মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে এরই মধ্যে আর্জেন্টিনায় বিশেষ আয়োজনও শুরু হয়েছে। ৬ অক্টোবর ‘গ্রাসিয়াস, লিও’ নামে একটি ফ্যান ফেস্ট আয়োজন করছে এএফএ। সেখানে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর পাশাপাশি মেসিকে ঘিরে বিশেষ আবেগঘন পরিবেশ তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সব বিতর্ক ছাপিয়ে মাঠের ফুটবলই অবশ্য এই ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ। ৭ অক্টোবর মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও বেনিন মুখোমুখি হবে। মেসির জন্য ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ হওয়ার কথা। ফলে তার বিদায়ের আবেগের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের ভ্রমণ, আবাসন এবং ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক কাঠামো নিয়েও ম্যাচটি বাড়তি আলোচনায় এসেছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!