বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি। আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনে হলেও আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, ঠিকানা, পাসপোর্টের মেয়াদ, পাতার সংখ্যা এবং বিতরণের ধরনসহ বিভিন্ন তথ্য সঠিকভাবে দিতে হয়। আবেদনের সময় ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী ধাপে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আবেদন শুরু করার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ই-পাসপোর্টের আবেদন ফরমে শুরুতেই আবেদনকারীর পাসপোর্ট অফিস বা বাংলাদেশ মিশন, পাসপোর্টের ধরন, পাতার সংখ্যা, পাসপোর্টের মেয়াদ এবং বিতরণের ধরনসংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়। নতুন পাসপোর্টের পাশাপাশি রি-ইস্যুর জন্যও এই আবেদন ফরম ব্যবহার করা হয়। ফলে আবেদনকারী নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন, নাকি আগের পাসপোর্টের রি-ইস্যু করছেন, সেটি আগে পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আবেদন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া। সরকারি ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরমে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী আবেদন ফরমের তথ্য পূরণ করতে হবে। ভুল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ফরমে উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে শুধু বানান নয়, নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মনিবন্ধন নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য দেওয়ার সময় মূল নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
আবেদনকারীর পূর্ণ নাম, নামের প্রথম অংশ ও শেষ অংশ, জন্মতারিখ, জন্মের দেশ, জন্ম জেলা, জন্মস্থান, লিঙ্গ, ধর্ম, নাগরিকত্বের ধরন, বৈবাহিক অবস্থা, পেশা, যোগাযোগের নম্বর এবং ই-মেইলসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য আবেদন ফরমে চাওয়া হয়। যেসব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো নথিতে যেভাবে রয়েছে সেভাবেই দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের আগে নিজের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার তথ্যও প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। আবেদন ফরমে স্থায়ী ঠিকানার পাশাপাশি বর্তমান ঠিকানার তথ্য চাওয়া হয়। বর্তমান ঠিকানা বাংলাদেশে কিংবা বিদেশে হতে পারে। জেলা, থানা, ডাকঘর, পোস্টাল কোড এবং শহর, গ্রাম বা বাড়ির তথ্যসহ ঠিকানার বিভিন্ন অংশ সঠিকভাবে পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন শুরু করার আগে নিজের ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখা হলে ফরম পূরণ করা সহজ হয়।
আবেদনকারীর পারিবারিক তথ্যও ই-পাসপোর্ট আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফরমে বাবা ও মায়ের নাম, জাতীয়তা, পেশা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বৈধ অভিভাবক এবং স্বামী বা স্ত্রীর তথ্যও দিতে হতে পারে। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অভিভাবক বা দাম্পত্য সম্পর্কিত তথ্য প্রযোজ্য, তাদের সংশ্লিষ্ট তথ্য সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
আগের পাসপোর্ট থাকলে রি-ইস্যু আবেদনের ক্ষেত্রে সেটির তথ্যও প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন ফরমে আগের পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং রি-ইস্যুর কারণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আগের পাসপোর্টে কোনো পরিবর্তন না থাকলে ফরমের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী শুধু প্রথম পৃষ্ঠার নির্ধারিত অংশ পূরণ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে তথ্যের পরিবর্তন প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত অংশ পূরণ করতে হয়।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কেও আগে থেকে ধারণা থাকা জরুরি। সরকারি আবেদন ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, আগের পাসপোর্ট, বিবাহের সনদ, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি, অবসরসংক্রান্ত কাগজপত্র, জিডি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নথি সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কোন নথি প্রয়োজন হবে, তা আবেদনের ধরন ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে বিষয়টি আবেদনে আলাদাভাবে উল্লেখ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে জিডি-সংক্রান্ত তথ্যও প্রয়োজন হতে পারে। ফলে পাসপোর্ট হারানো বা চুরির ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এরপর রি-ইস্যুর আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের আগে জরুরি যোগাযোগের তথ্যও প্রস্তুত রাখা ভালো। আবেদন ফরমে জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, সম্পর্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আবেদন শুরু করার আগেই একজন জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে রাখলে ফরম পূরণের সময় বাড়তি ঝামেলা কমে।
আবেদনকারীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ফোন নম্বর, ই-মেইল বা পাসওয়ার্ডের মতো তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অনলাইনে আবেদন করার সময় অনুমোদিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই কাজ সম্পন্ন করা নিরাপদ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র মিলিয়ে নেওয়া। নাম বা জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য ভুল হলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে এবং এতে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত আবেদন শেষ করার চেয়ে শুরুতেই তথ্য যাচাই করে সঠিকভাবে আবেদন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু হলেও পুরো বিষয়টি শুধু একটি ফরম পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আবেদনকারীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, প্রয়োজনীয় নথি, পাসপোর্টের ধরন, মেয়াদ ও অন্যান্য নির্বাচনের বিষয়গুলো আগে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। এসব তথ্য প্রস্তুত রেখে আবেদন করলে ভুলের ঝুঁকি কমে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
ই-পাসপোর্টের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে আবেদন করাই নিরাপদ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!