নওগাঁর পত্নীতলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিশ্নু চন্দ্র (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে পুলিশ।

রোববার (৪ অক্টোবর) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল পত্নীতলা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার উমা মহেশপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উমা মহেশপুর গ্রামের একটি বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রোববার বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা ওই এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজনের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, তিনি বিশ্নু চন্দ্র (২৮)। তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আলী দেওনা পূর্বপাড়া গ্রামের সুপথ বর্মনের ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বিশ্নু চন্দ্রের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১৩ পাতায় থাকা মোট ১৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। তবে এসব মাদক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং মাদক সরবরাহের পেছনে কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার বিশ্নু চন্দ্রসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনের বিরুদ্ধে পত্নীতলা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা ট্যাপেন্টাডল আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদক কারবার ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। তদন্ত শেষে উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস ও অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!