স্পেনের নারী ফুটবলের অন্যতম আলোচিত লড়াই এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদকে ৭–০ গোলে হারিয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে প্রতিপক্ষের ওপর পরিষ্কার আধিপত্য দেখায় তারা। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ শুরু থেকেই বার্সেলোনার আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খায়। ম্যাচের প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে বার্সেলোনা কার্যত জয়ের ভিত তৈরি করে ফেলে। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের এই জয় লিগের পয়েন্ট তালিকায়ও বার্সেলোনার অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনার আক্রমণভাগ রিয়ালের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে। সেই চাপের ফল আসে মাত্র চতুর্থ মিনিটে। ক্লদিওয়া পিনা গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন। এরপরও আক্রমণের ধার কমেনি স্বাগতিকদের। ২৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পিনা। মাত্র চার মিনিট পর আবারও গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের অন্যতম প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। তার গতি, অবস্থান এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতার সামনে রিয়ালের রক্ষণ বারবার ভেঙে পড়ে। একের পর এক আক্রমণে বার্সেলোনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
পিনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মধ্যেই বার্সেলোনার গোলের ব্যবধান আরও বাড়ান ক্যারোলিন গ্রাহাম হ্যানসেন। ৩৩ মিনিটে গোল করে তিনি রিয়ালের বিপক্ষে দলের চতুর্থ গোলটি করেন। এই গোলের পরও বার্সেলোনা আক্রমণ থামায়নি। রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের রক্ষণ সামলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও বার্সেলোনার পাসিং ও আক্রমণের গতি তাদের সেই সুযোগ দেয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও গোল করেন পিনা। নিজের চতুর্থ গোল পূর্ণ করে তিনি এল ক্লাসিকোয় এক অর্ধে চার গোল করার অসাধারণ কীর্তি গড়েন। ফলে বিরতির সময় বার্সেলোনা ৫–০ গোলে এগিয়ে ছিল এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সেলোনার আক্রমণ অব্যাহত থাকে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এওয়া পাজোর গোল করে দলের ব্যবধান ৬–০ করেন। পাজোরের এই গোলটি ব্যক্তিগত দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এল ক্লাসিকোয় এটি ছিল তার ১৫তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি বার্সেলোনার কিংবদন্তি অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াসের ১৫ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান। দুই খেলোয়াড়ই এখন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় একই অবস্থানে রয়েছেন। ফলে বড় জয়ের পাশাপাশি পাজোরের জন্যও ম্যাচটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
ছয় গোল হজম করার পর রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে। তবে বার্সেলোনার রক্ষণভাগ তাদের আক্রমণগুলো সফল হতে দেয়নি। অন্যদিকে বার্সেলোনা সুযোগ পেলেই আক্রমণে উঠে যাচ্ছিল। ম্যাচের শেষ ভাগেও স্বাগতিকরা গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায়। ৮৮ মিনিটে সিডনি শেরটেনলাইব দূরপাল্লার শটে বার্সেলোনার সপ্তম গোলটি করেন। তার গোলের সঙ্গে সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনার বড় জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন ছিল ৭–০। এল ক্লাসিকোয় এত বড় ব্যবধানের জয় বার্সেলোনার জন্য ম্যাচটিকে আরও ঐতিহাসিক করে তোলে।
এই জয়ের ফলে লিগের পয়েন্ট তালিকাতেও বার্সেলোনার অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। ছয় ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৮। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখন পাঁচ পয়েন্ট। ফলে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে বড় জয় পাওয়ার পাশাপাশি শীর্ষস্থান ধরে রাখার দৌড়েও বার্সেলোনা গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এই হার লিগ মৌসুমের বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। বিশেষ করে এল ক্লাসিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাত গোল হজম করায় দলের রক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ম্যাচের ফল দুই দলের বর্তমান অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ম্যাচটি দর্শকদের উপস্থিতির দিক থেকেও বিশেষ হয়ে ওঠে। বার্সেলোনার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই নারী এল ক্লাসিকো দেখতে বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। মাঠের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর এবং বার্সেলোনার একের পর এক গোলের সঙ্গে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসও বাড়তে থাকে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন ক্লদিওয়া পিনা। এক ম্যাচে চার গোল করে তিনি শুধু দলের বড় জয়ে অবদান রাখেননি, নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়েও এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। পাজোরের রেকর্ড স্পর্শ এবং বার্সেলোনার বড় জয় মিলিয়ে ম্যাচটি নারী ফুটবলের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৭–০ গোলের জয় বার্সেলোনার জন্য ছিল একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ক্লদিওয়া পিনার চার গোল, হ্যানসেনের গোল, পাজোরের ১৫তম এল ক্লাসিকো গোল এবং শেরটেনলাইবের শেষ মুহূর্তের গোল ম্যাচের গল্পকে পূর্ণতা দিয়েছে। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ পুরো ম্যাচে বার্সেলোনার আক্রমণ সামলাতে পারেনি। পাঁচ গোলের প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সেলোনা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে। শেষ পর্যন্ত সাত গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা এবং লিগে পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করে। এল ক্লাসিকোর এই ফল তাই বার্সেলোনার মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হয়ে থাকল।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!