নতুন মোটরযান কেনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো বিআরটিএতে সেটি নিবন্ধন করা। তবে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের আগে মোট খরচ কত হবে, তা নিয়ে অনেক মালিকেরই ধারণা থাকে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নতুন মোটরযান নিবন্ধন ফি হিসাব করার জন্য আলাদা ফি ক্যালকুলেটর রয়েছে। সেখানে গাড়ির ধরন, শ্রেণি, আসন সংখ্যা, ওজন, উৎপাদন বছর, সিসি, বৈদ্যুতিক মোটরযান কি না এবং রোড ট্যাক্সের কিস্তিসহ বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সম্ভাব্য ফি হিসাব করা যায়।
নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি সবার জন্য একই নয়। বিআরটিএর সরকারি ফি ক্যালকুলেটরে প্রথমেই মালিকানার ধরন নির্বাচন করতে হয়। এরপর মোটরযানের ধরন ও শ্রেণি নির্বাচন করতে হয়। অর্থাৎ আপনি কী ধরনের গাড়ি নিবন্ধন করছেন এবং সেটির মালিকানা কী ধরনের, তার ওপর ফি হিসাবের প্রক্রিয়া নির্ভর করে।
ফি হিসাব করার সময় গাড়ির আসন সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএর নতুন মোটরযান ফি ক্যালকুলেটরে আসন সংখ্যার জন্য আলাদা ঘর রয়েছে। তাই গাড়ির কাগজপত্রে থাকা সঠিক আসন সংখ্যা অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে হিসাব করা ফি প্রকৃত ফি থেকে ভিন্ন হতে পারে।
গাড়ির ওজনও ফি নির্ধারণের অন্যতম তথ্য। সরকারি ক্যালকুলেটরে খালি মোটরযানের ওজন এবং বোঝাই অবস্থায় মোটরযানের ওজন—দুই ধরনের তথ্য চাওয়া হয়। ফলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজপত্র হাতে রেখে ক্যালকুলেটরে তথ্য দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
এর পাশাপাশি উৎপাদন বছর দিতে হয়। নতুন গাড়ির ফি হিসাবের সময় গাড়িটি কোন বছরে তৈরি হয়েছে, সেই তথ্য ক্যালকুলেটরে দিতে হয়। বিশেষ করে আমদানি করা বা নির্দিষ্ট শ্রেণির গাড়ির ক্ষেত্রে উৎপাদন বছরের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
গাড়িটি ভাড়ায় চালিত হবে কি না এবং হায়ার পারচেজের আওতায় কেনা হয়েছে কি না, সেটিও ফি ক্যালকুলেটরের তথ্যের অংশ। বিআরটিএর সরকারি ক্যালকুলেটরে ভাড়ায় চালিত এবং হায়ার পারচেজ—দুই বিষয়েই আলাদা অপশন রয়েছে। ফলে শুধু গাড়ির সিসি দেখে মোট রেজিস্ট্রেশন খরচ অনুমান করা ঠিক হবে না।
বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্যও বিআরটিএর ফি ক্যালকুলেটরে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন মোটরযানের ফি হিসাব করার সময় বৈদ্যুতিক মোটরযান কি না নির্বাচন করতে হয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কিলোওয়াট-এর তথ্য দিতে হয়। অন্যদিকে প্রচলিত জ্বালানি চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে সিসির তথ্য দিতে হয়।
রোড ট্যাক্সের কিস্তিও ফি হিসাবের অংশ। সরকারি ক্যালকুলেটরে রোড ট্যাক্স কিস্তি নির্বাচন করার অপশন রয়েছে। তাই গাড়ি নিবন্ধনের সময় শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি নয়, রোড ট্যাক্সের বিষয়টিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।
বিআরটিএর নতুন গাড়ির ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে হলে প্রথমে সরকারি সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করে Fee Calculator নির্বাচন করতে হবে। সেখানে নতুন মোটরযান নিবন্ধনের ফি হিসাব করার অপশন পাওয়া যায়। এরপর একে একে মালিকানার ধরন, মোটরযানের ধরন, শ্রেণি, আসন সংখ্যা, খালি ওজন, বোঝাই ওজন, উৎপাদন বছরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
সব তথ্য দেওয়ার পর নিরাপত্তা কোড বা ক্যাপচা পূরণ করে Calculate অপশনে ক্লিক করতে হয়। এরপর সিস্টেমে প্রযোজ্য ফি হিসাব দেখানো হবে। ফলে গাড়ির মালিক বা ক্রেতা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই সম্ভাব্য সরকারি ফি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
তবে ফি ক্যালকুলেটরে প্রদর্শিত হিসাবকে শুধু একটি হিসাব হিসেবে দেখা উচিত। গাড়ির প্রকৃত নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই, গাড়ি পরিদর্শন এবং বিআরটিএর অনুমোদনের ধাপ রয়েছে। বিআরটিএর অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়ার জন্য অ্যাসেসমেন্ট স্লিপ দেওয়া হয় এবং ফি পরিশোধের পর গাড়িটি পরিদর্শনের জন্য বিআরটিএ অফিসে হাজির করতে হয়।
নতুন গাড়ি নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত রাখতে হয়। বিআরটিএর নাগরিক সনদ অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি, ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল, বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস, বিল অব লেডিং, এলসিএ কপি, বিক্রয় প্রমাণপত্র, TIN/e-TINসহ প্রযোজ্য বিভিন্ন নথি প্রয়োজন হতে পারে। গাড়ির ধরন ও মালিকানার ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত কাগজপত্রও লাগতে পারে।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় গাড়ি পরিদর্শনের পর মালিকানা ও গাড়ির তথ্য বিআরটিএর তথ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুমোদন হলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন দেওয়া হয়। পরবর্তী ধাপে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ডিআরসি তৈরির জন্য মালিকের ডিজিটাল ছবি, স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়।
এ কারণে গাড়ি কেনার পর রেজিস্ট্রেশন খরচ সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নিতে চাইলে বিআরটিএর সরকারি ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা সুবিধাজনক। বিশেষ করে গাড়ির সিসি, ওজন, উৎপাদন বছর, আসন সংখ্যা এবং রোড ট্যাক্সের কিস্তির মতো তথ্য হাতে থাকলে হিসাব করা সহজ হয়। তবে আবেদন ও পেমেন্টের সময় সবসময় বিআরটিএর পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ তথ্য ও ফি অনুসরণ করা উচিত।
সব মিলিয়ে, নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে যাওয়ার আগে আনুমানিক খরচ জানতে বিআরটিএর নতুন মোটরযান নিবন্ধন ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায়। এতে মালিকানার ধরন থেকে শুরু করে গাড়ির শ্রেণি, ওজন, সিসি বা কিলোওয়াট এবং রোড ট্যাক্সের কিস্তির তথ্য দিয়ে হিসাব করা সম্ভব। এতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বিষয়ে আগে থেকেই একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!