লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রাহুল ঘাট ও মিয়ারহাট খালে প্রশাসনের অভিযান ও ড্রেজার নিষ্ক্রিয় করার পরও ফের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের অভিযানকে উপেক্ষা করে নতুন করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু তুলছে। এতে খাল ও নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাহুল ঘাট ও মিয়ারহাট খালের বিভিন্ন পয়েন্টে গত কয়েকদিন ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর আগে স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্টসহ বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে ড্রেজার নিষ্ক্রিয় করলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও একই এলাকায় নতুন করে ড্রেজার বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বালু উত্তোলনের কারণে এরই মধ্যে তীরবর্তী বিভিন্ন জমিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে নদী ও খালের তীরবর্তী বহু বসতভিটা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভাঙনের মুখে পড়তে পারে।

রাহুল ঘাট এলাকার এক জ্যেষ্ঠ বাসিন্দা আব্দুর রহিম (ছদ্মনাম) বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করছেন। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে চলে যাওয়ার পরপরই আবার ড্রেজার চালু করে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়। এতে যেকোনো সময় ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি ও মারধরের শিকার হওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান সাময়িকভাবে কার্যকর হলেও স্থায়ীভাবে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে বালু উত্তোলনকারীরা বারবার একই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মিয়ারহাট এলাকার গৃহিণী সালমা বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, রাতভর ড্রেজারের বিকট শব্দে শিশুদের ঘুমাতে সমস্যা হয়। এর সঙ্গে রয়েছে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা। সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে শুধু ব্যক্তিগত বসতভিটাই নয়, এলাকার কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা ড্রেজার জব্দ, বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ অবস্থায় রাহুল ঘাট ও মিয়ারহাট খালের তীরবর্তী মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও সড়ক রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রশাসনের আগের অভিযানগুলো কেন স্থায়ীভাবে কার্যকর হয়নি এবং অভিযানের পর কীভাবে ফের ড্রেজার বসানো হলো, তা খতিয়ে দেখারও দাবি উঠেছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!