আর্জেন্টিনা নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের দারুণ প্রদর্শন দেখিয়ে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে আর্জেন্টাইনরা। লাওতারো মার্তিনেজের গোল দিয়ে শুরু হওয়া গোল উৎসবে পরে যোগ দেন নিকো প্রেস্টিয়ানি, নিকো পাজ, হুলিয়ান আলভারেজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো ও জুলিয়ানো সিমিওনে।

এর সঙ্গে বুরকিনা ফাসোর একটি আত্মঘাতী গোলও আর্জেন্টিনার ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। ফলে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার জন্য এটি ছিল নিজেদের শক্তিমত্তা ও আক্রমণভাগের কার্যকারিতা দেখানোর বড় সুযোগ। অন্যদিকে বুরকিনা ফাসো পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার গতি ও আক্রমণের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা দ্রুত আক্রমণে ওঠে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে। সেই চাপের ফল আসে মাত্র চতুর্থ মিনিটেই। লাওতারো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এরপর অষ্টম মিনিটে বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার দিয়ালো নিজেদের জালে বল পাঠালে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনা ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ১২তম মিনিটে নিকো প্রেস্টিয়ানি গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। আর্জেন্টিনার দ্রুত আক্রমণ, মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং সামনে থাকা খেলোয়াড়দের সমন্বয় বুরকিনা ফাসোর রক্ষণকে বারবার বিপাকে ফেলতে থাকে।

প্রথমার্ধের শেষ ভাগেও আর্জেন্টিনার গোলের ধারাবাহিকতা থামেনি। ৩৫তম মিনিটে নিকো পাজ গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। মাত্র এক মিনিট পরেই জুলিয়ান আলভারেজের গোলে আর্জেন্টিনা পাঁচ গোলের লিড পেয়ে যায়। প্রথম ৪৫ মিনিটেই পাঁচ গোল হজম করায় বুরকিনা ফাসোর ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা একের পর এক আক্রমণ তৈরি করছিলেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখছিলেন। বিপরীতে বুরকিনা ফাসো আক্রমণে খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে বিরতির সময় ৫-০ ব্যবধান নিয়ে স্বস্তিতে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার কমায়নি। বরং নতুন সুযোগ তৈরি করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখে তারা। ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো আর্জেন্টিনার ষষ্ঠ গোল করেন। তার গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-০।

এই সময়েও বুরকিনা ফাসোর রক্ষণকে বেশিরভাগ সময় নিজেদের বক্সের আশপাশে অবস্থান করতে দেখা যায়। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ছোট ছোট পাসে আক্রমণ সাজিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যান। বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে গোল করার আগ্রহ ছিল স্পষ্ট।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে থাকে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনে সপ্তম গোলটি করেন।

ফলে স্কোরলাইন ৭-০ হয়ে যায়। লাওতারো মার্তিনেজের গোলে যে গোল উৎসব শুরু হয়েছিল, সেটির সমাপ্তি ঘটে সিমিওনের গোলে। সাত গোলের মধ্যে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ছয়টি গোল করেন, আর একটি আসে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী ভুল থেকে।

পুরো ম্যাচের হিসাবেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। সাতটি গোল করার পাশাপাশি তারা ম্যাচের অধিকাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বুরকিনা ফাসোকে চাপের মধ্যে রাখে।

এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল একাধিক খেলোয়াড়ের গোল পাওয়া। লাওতারো মার্তিনেজ ও জুলিয়ান আলভারেজের মতো পরিচিত তারকার পাশাপাশি প্রেস্টিয়ানি, পাজ, মাস্তান্তুয়োনো ও সিমিওনের মতো খেলোয়াড়রাও স্কোরশিটে নাম লেখান।

এতে দলের আক্রমণভাগে বিকল্প ও বৈচিত্র্যের চিত্র ফুটে ওঠে। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে এত বড় ব্যবধানে জয় আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এমন পারফরম্যান্স দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ ধরে রাখাই শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয়ের মূল কারণ হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে ৭-০ গোলের জয়টি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল দারুণ এক গোল উৎসবের রাত। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য ধরে রেখে তারা বুরকিনা ফাসোকে কোনো সুযোগ তৈরি করার মতো অবস্থায় যেতে দেয়নি।

লাওতারো মার্তিনেজের দ্রুত গোলের পর আত্মঘাতী গোল, প্রেস্টিয়ানি, পাজ ও আলভারেজের ধারাবাহিক সাফল্যে প্রথমার্ধেই ম্যাচের ফল অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে মাস্তান্তুয়োনো ও সিমিওনের গোল সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৭-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

এই ফল শুধু বড় ব্যবধানের জয় নয়, দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়েরও একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকল।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!