খুলনা থেকে মোংলায় ফেরার পথে রোগী বহনের জন্য ব্যবহৃত মোংলা পোর্ট পৌরসভার একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ছয়টি ছাগল পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটির চালক মো. শরীফুলের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি খুলনায় রোগী নামিয়ে মোংলার দিকে ফিরছিল। পথে খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে ছয়টি ছাগল অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মোংলার ছাগল ব্যবসায়ী মো. রশিদের ছাগলগুলো চালক শরীফুল অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নেন।
এ সময় ঘটনাটি দেখতে পেয়ে এক পথচারী ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, রোগী পরিবহনের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের অংশে ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করা হতো। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চালক মো. শরীফুল।
চালক শরীফুলের দাবি, অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ঘটনা এটাই প্রথম। তার ভাষ্য, চুকনগর এলাকা থেকে ছাগলগুলো মোংলায় নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন না পেয়ে কসাই রশিদ তাকে অনুরোধ করেন। মানবিক কারণে তিনি ছাগলগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তুলে মোংলায় নিয়ে আসেন। এ জন্য কোনো টাকা নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
একই কথা জানিয়েছেন ছাগল ব্যবসায়ী রশিদ। তার দাবি, চুকনগর হাট থেকে ছাগল কেনার পর জিরো পয়েন্ট এলাকায় এসে তিনি কোনো পরিবহন পাচ্ছিলেন না। পরে অ্যাম্বুলেন্স দেখে চালককে অনুরোধ করেন এবং তাকে বুঝিয়ে ছাগলগুলো মোংলায় নিয়ে আসেন।
এদিকে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেয়। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) চালক শরীফুলের কাছ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের অফিসিয়াল চাবি জমা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
তবে ছাগল পরিবহনের বিষয়ে চালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কিংবা এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী তদন্তে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রোগী বহনের জন্য নির্ধারিত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সরকারি সেবার যানবাহন নির্ধারিত কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!