কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রাম আজুতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামসহ অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় আগের রাতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে আটিগ্রামের একটি মসজিদে এশার নামাজের পর রাজনৈতিক আলোচনা করা হচ্ছিল বলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই রাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা এবং ওই রাতের ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য বা বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে আজুতলা বাজারে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী। কর্মসূচির সময় নির্ধারণ করা হয় বিকেল সাড়ে ৪টা। একই স্থান ও একই সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকেও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলে সম্ভাব্য মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

শনিবার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আজুতলা বাজার এলাকায় কর্মসূচি পালন করেন। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মীর দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে হামলা বা সংঘর্ষের সূচনা কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের পৃথক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন। এ সময় মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম আহত হন। পরে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ওসিসহ অন্তত দুজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অন্য আহত ব্যক্তির পরিচয় ও তাঁর আঘাতের ধরন সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর শরীরে হালকা আঘাত লেগেছে এবং তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশের টহলও জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশের উপস্থিতির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয়দের মধ্যে যাতে নতুন করে কোনো সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে একই স্থানে দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন আবারও মুখোমুখি অবস্থান তৈরি না হয়, সে বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে। গত সেপ্টেম্বরেও মিরপুর থানায় একটি নাশকতার মামলায় আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগে জামায়াত ও বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছিল। ওই ঘটনায়ও মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বক্তব্য দিয়েছিলেন।

এর আগে মিরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আহত এক জামায়াত কর্মীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছিল এবং পুলিশ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন ছিল।

তবে শনিবারের আজুতলা বাজারের ঘটনার সঙ্গে আগের ঘটনাগুলোর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান ঘটনায় শুক্রবার রাতের মসজিদকেন্দ্রিক কথাকাটাকাটির পর শনিবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল—এটুকু তথ্য স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর এখন পর্যন্ত বড় ধরনের নতুন সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। মিরপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে দুই পক্ষের একই স্থান ও সময়ে কর্মসূচি দেওয়ায় যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে, শনিবারের ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আজুতলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!