সরকারের কঠোর নির্দেশনার পর চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার কথা উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ দমনে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিষয়টি সামনে এসেছে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির ঘটনার পর। ১ অক্টোবর মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে।

বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দলের ভেতরেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ওই কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কর্মীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয় গ্যাং এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে এবং বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল বা সরকারের পদ-পদবি দিয়ে তাকে রক্ষা করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে মাঠপর্যায়ে অভিযান আরও কার্যকর হতে পারে।

স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে। জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক কিংবা যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পর অপরাধীদের মধ্যে আত্মগোপনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং তাঁর সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হয়েছে বলে সংসদীয় সূত্র জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবে কতটা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় প্রভাব ফেলবে কি না, সেটিও সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!