খাগড়াছড়ি শহরে দিন দিন বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর। এতে পথচারীদের পাশাপাশি স্কুলগামী শিশু, কিশোরী ও বয়স্কদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক। বিশেষ করে ভোর ও রাতের দিকে সড়কে কুকুরের দল অবস্থান নেওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজে বের হতেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন।
শহরের পানখাইয়াপাড়া সড়ক, জিয়ামুর্তির সামনের এলাকা, টিএনটি গেট, নারিকেল বাগানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত কুকুরের দল দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসঙ্গে অনেক কুকুরের অবস্থান ও চিৎকার-চেঁচামেচিতে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেওয়ারিশ কুকুরগুলো হঠাৎ চলন্ত মোটরসাইকেল কিংবা টমটমের সামনে চলে আসে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। কুকুর এড়িয়ে যেতে গিয়ে চালকরা কখনো কখনো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, টমটমের সঙ্গে কুকুরের ধাক্কা বা সংঘর্ষের ঘটনাও প্রায়ই চোখে পড়ে।
বাসিন্দারা জানান, ভাদ্র মাসের শুরু থেকেই শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা ও উৎপাত বাড়তে শুরু করেছে। ১৮ আশ্বিন পর্যন্ত পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বরং কিছু এলাকায় কুকুরের দল আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিনের চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
কুকুরের উৎপাত নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট শিক্ষার্থী এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের মেয়েদের একা স্কুলে যাতায়াতের সময় কুকুরের দল দেখে আতঙ্কিত হতে হচ্ছে। অনেক সময় কুকুর তাড়া করলে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করতে হয়। এতে কুকুরের কামড়ের আশঙ্কার পাশাপাশি পড়ে গিয়ে বা সড়কে যানবাহনের সামনে চলে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ শহরের বিভিন্ন স্থানে অসুস্থ কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ করা কুকুর দেখার কথাও জানিয়েছেন। কোথাও কোথাও অসুস্থ কুকুর পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব কুকুর জলাতঙ্কে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে অসুস্থ কুকুরের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
আরেক বাসিন্দা বলেন, “বিশেষ করে ফজরের নামাজের সময় রাস্তায় কুকুরের দল দেখে আতঙ্কিত হই। অনেক সময় নামাজে যাওয়ার সময়ও ভয় লাগে।”
স্থানীয়দের দাবি, পর্যটননির্ভর খাগড়াছড়ি শহরের স্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে বেওয়ারিশ কুকুরের এমন অবাধ বিচরণ জনজীবনে নতুন ভোগান্তি তৈরি করছে। শুধু জেলা শহর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।
এ অবস্থায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, অসুস্থ কুকুর শনাক্তকরণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ চান স্থানীয়রা। জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!