প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ সমাহিত, সৎকার ও প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা আর্থিক মঞ্জুরি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে জারি করা আদেশের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে এ অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় যুদ্ধাহত ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা খাতের দাফন বাবদ অনুদানের জন্য চলতি অর্থবছরে মোট ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্য থেকে তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দাফন বাবদ বরাদ্দ ১৮ কোটি টাকার অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ৫২ দশমিক ৭৭ শতাংশ অর্থ এই পর্যায়ে মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত আদেশটি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয় এবং ৩০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। আদেশে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষর করেছেন। একই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বরাদ্দের অর্থ মাঠপর্যায়ে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিজ নিজ এলাকার ট্রেজারি বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিল দাখিল করে অর্থ উত্তোলন করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে বরাদ্দের অথরিটি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আদেশে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বরাদ্দ করা অর্থ কোনোভাবেই অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। শুধু প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ সৎকার, সমাহিত করা এবং মরদেহ পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় মেটাতেই এ অর্থ ব্যয় করতে হবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ অন্য কোনো প্রশাসনিক, ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট নয় এমন খাতে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।
অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও প্রচলিত নিয়মাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত ব্যয় হলে সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী কর্তৃপক্ষকে দায় বহন করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের সময় সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার নিয়ম মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দের অর্থ চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত দাফন বাবদ অনুদান খাতের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ এটি আলাদা কোনো নতুন খাত তৈরির মাধ্যমে দেওয়া বরাদ্দ নয়; বরং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আগে থেকেই দাফন বাবদ নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় করা হয়েছে। এ তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নোটিশেও উল্লেখ রয়েছে।
এ অর্থ ব্যবহারের সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩০ জুন অর্থবছর শেষ হওয়ার পর যদি বরাদ্দের কোনো অংশ অব্যয়িত থেকে যায়, তাহলে তা সরকারি কোষাগারের নির্ধারিত খাতে ফেরত জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। ফলে অর্থবছর শেষে অব্যবহৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে রেখে দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের নোটিশ তালিকাতেও এ বরাদ্দের আদেশটি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আদেশটির শিরোনামে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ সমাহিত, সৎকার ও পরিবহনের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহের কথা উল্লেখ করে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকার আর্থিক মঞ্জুরির তথ্য দেওয়া হয়েছে। নোটিশটির প্রকাশের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং আর্কাইভের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা নিয়মিতভাবে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নোটিশ বোর্ডে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের জন্য ২ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৭ জন উপকারভোগীর অনুকূলে সম্মানী ভাতা বাবদ ৩৯২ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজার ৪২৪ টাকা বরাদ্দ মঞ্জুরির আদেশও ২৯ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ দাফন ও সৎকারের জন্য এবার যে অর্থ ছাড় করা হয়েছে, তা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের বৃহত্তর আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট অংশ।
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা সংক্রান্ত আদেশ, বিধিমালা ও নির্দেশিকার পাশাপাশি ভাতা বিতরণের ধাপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশাসনের দায়িত্বের তথ্যও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা ব্যবস্থাকে প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে।
নতুন এই বরাদ্দের ফলে দেশের কোনো এলাকায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হলে তার মরদেহ সৎকার, দাফন বা সমাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় মেটাতে মাঠ প্রশাসনের হাতে নির্ধারিত বাজেটের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে মৃত্যুর পরপরই যেসব ব্যয় দ্রুত নির্বাহ করা প্রয়োজন, সেগুলো মেটাতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে এই অর্থ ব্যক্তির হাতে সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়ার পরিবর্তে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি বিধি মেনে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয় করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ এবং অর্থবছর শেষে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন, সৎকার ও মরদেহ পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় মেটাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা ছাড় করেছে। মন্ত্রণালয়ের ১৮ কোটি টাকার দাফন অনুদান বরাদ্দের মধ্য থেকে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। অর্থ ব্যবহারে নির্দিষ্ট খাত, সরকারি আর্থিক বিধি এবং জবাবদিহির শর্ত রাখা হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩০ জুনের পর অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!