নওগাঁর ধামইরহাটে ঐতিহাসিক মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবীর ঠাকুর কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির পরিবেশ সবুজ ও সুন্দর রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ধামইরহাট উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় ৬০০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজের নেতৃত্বে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন।

স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, ধামইরহাটের ঠাকুর কাছারিবাড়ি জমিদারি আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের সহধর্মিণী ছিলেন মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবী। ধামইরহাট এলাকায় তাঁদের বিস্তৃত জমিদারি ছিল। প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়সহ জমিদারির বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় এই কাছারিবাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

লাল ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলীতে গড়ে ওঠা কাছারিবাড়িটিতে একসময় দরবার হল, খাজনা আদায়ের কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরও স্থাপনাটি ওই সময়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে টিকে আছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে কাছারিবাড়িটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বটগাছসহ নানা ধরনের পরজীবী উদ্ভিদ জন্মেছে। এতে প্রাচীন স্থাপত্যের বিভিন্ন অংশ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে প্রায় ৬০০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ পরিবেশের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির মূল কাঠামো রক্ষায় সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে কাছারিবাড়িটির সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও তুলে ধরা সম্ভব হবে। পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে ধামইরহাটের এই ঐতিহাসিক স্থানটি ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি স্থাপনাটির ঐতিহ্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!