ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে বড় ধাক্কা খেলেন বিরাট কোহলি। ম্যাচে নিজের ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হয়ে গোল্ডেন ডাকের শিকার হন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার। দীর্ঘ সময় পর ওয়ানডেতে আবারও এমন অভিজ্ঞতা হলো তার। এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই সর্বশেষ ওয়ানডেতে গোল্ডেন ডাক করেছিলেন কোহলি। ফলে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দীর্ঘ ব্যবধানের পর আবারও প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরার ঘটনা ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
তৃতীয় ওয়ানডেতে ভারতীয় ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে নামেন কোহলি। তার কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণের সুযোগই পাননি তিনি। ইনিংসের প্রথম বলেই প্রতিপক্ষের বোলারের বলে পরাস্ত হয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন ভারতীয় তারকা। ওয়ানডে ক্রিকেটে একজন ব্যাটারের জন্য গোল্ডেন ডাক সবসময়ই হতাশার মুহূর্ত। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে খেলা একজন ব্যাটারের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা আলাদা করে আলোচনায় আসে।
কোহলির এই গোল্ডেন ডাকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সময়ের ব্যবধান। ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই তিনি সর্বশেষ ওয়ানডেতে প্রথম বলে আউট হয়েছিলেন। এরপর কেটে গেছে ২৪৮১ দিন। এত দীর্ঘ সময় পর আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন তিনি। ক্রিকেটে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্যাটারদের অনেক ওঠানামার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কোহলির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পরিস্থিতি এসেছে, তবে ওয়ানডেতে গোল্ডেন ডাকের ঘটনা তার জন্য খুব ঘন ঘন দেখা যায়নি।
ম্যাচটির তৃতীয় ওয়ানডেতে কোহলির দ্রুত বিদায় ভারতীয় দলের ইনিংসের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাধারণত ওয়ানডেতে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ওপর ইনিংসকে স্থিতিশীল করার বড় দায়িত্ব থাকে। কোহলিও দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার উইকেট দ্রুত হারানোয় ভারতীয় ইনিংসে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মুহূর্ত হয়ে ওঠে। প্রথম বলেই কোহলির মতো ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেওয়া যেকোনো বোলিং আক্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
২০১৯ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে কোহলি অসংখ্য ম্যাচ খেলেছেন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সেই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তার ব্যাটিংয়ে রান, বড় ইনিংস ও গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স যেমন এসেছে, তেমনি কিছু কঠিন সময়ও গেছে। তবে গোল্ডেন ডাকের মতো নির্দিষ্ট ঘটনা দীর্ঘ সময় পর আবার সামনে এলো। তাই তৃতীয় ওয়ানডেতে তার প্রথম বলেই বিদায় নেওয়ার বিষয়টি শুধু একটি শূন্য রানের ইনিংস নয়, বরং পরিসংখ্যানের দিক থেকেও আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচে কোহলির বিদায়ের আরেকটি দিক হলো প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার আগের স্মৃতি। ২০১৯ সালে যে দলের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে গোল্ডেন ডাক এসেছিল, সেই একই দলের বিপক্ষে আবারও প্রথম বলেই বিদায় নিতে হলো তাকে। দুই ঘটনার মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ২৪৮১ দিন। এই তথ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রিকেটভিত্তিক আলোচনায় সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। কোহলির মতো দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একজন তারকার ক্ষেত্রে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এত দীর্ঘ ব্যবধানে একই ধরনের আউট ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে একটি ম্যাচের একটি ইনিংস দিয়ে কোনো ব্যাটারের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে বিচার করা যায় না। কোহলি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে খেলছেন এবং তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য ইনিংস রয়েছে। তৃতীয় ওয়ানডেতে গোল্ডেন ডাক তার দিনের ব্যর্থতা হিসেবে পরিসংখ্যানে যুক্ত হয়েছে। ম্যাচের পরিস্থিতিতে তিনি কতটা সময় ব্যাটিং করতে পারতেন, সেটিও প্রথম বলেই আউট হয়ে যাওয়ায় দেখার সুযোগ মেলেনি। ফলে এই ইনিংস থেকে তার সামগ্রিক ব্যাটিং ফর্ম সম্পর্কে বড় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এই ঘটনার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ২৪৮১ দিনের ব্যবধান। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এই ম্যাচ পর্যন্ত ওয়ানডেতে কোহলির পথচলায় এসেছে বহু পরিবর্তন। দল বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলেছে, ক্রিকেটের পরিস্থিতিও বদলেছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে আবারও সেই গোল্ডেন ডাকের ঘটনা পুরোনো একটি পরিসংখ্যানকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথম বলেই বিদায় নেওয়ার কারণে কোহলির ব্যক্তিগত ইনিংস ছোট হলেও ঘটনাটি দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের কারণে ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের পাতায় আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!