আর্জেন্টিনা ও বার্কিনা ফাসোর মধ্যকার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে ম্যাচের আগমুহূর্তে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার ৪ অক্টোবর বুয়েনস আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্টালে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা। ম্যাচটি আর্জেন্টিনার অক্টোবরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় আয়োজন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মাত্র এক দিনের কিছু বেশি সময় আগে পর্যন্ত বার্কিনা ফাসোর জাতীয় দলের বহর মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় অবস্থান করছিল। ফলে সময়মতো আর্জেন্টিনায় পৌঁছে ম্যাচে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য সেই সময় পর্যন্ত ম্যাচ বাতিল বা স্থগিতের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি এবং সূচিতে ম্যাচটি বহাল রেখেছিল।

বার্কিনা ফাসোর যাত্রা জটিল হয়ে ওঠার পেছনে ছিল বিমানসংক্রান্ত সমস্যা। বার্কিনা ফাসো ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরক্কো থেকে বুয়েনস আয়ার্সে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত চার্টার ফ্লাইটটি কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাতিল হয়ে যায়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী দলটির ৩০ সেপ্টেম্বর মরক্কো ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই যাত্রা সম্ভব না হওয়ায় পুরো সফরসূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়। ২ অক্টোবর পর্যন্ত দলটি কাসাব্লাঙ্কায় অবস্থান করছিল এবং নতুনভাবে আর্জেন্টিনায় যাওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছিল। ফলে ম্যাচের সময় যত এগিয়ে আসছিল, ততই সময়মতো দল পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল।

এই পরিস্থিতির কারণে ম্যাচটি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও বিষয়টি পুরোপুরি বাতিলের পর্যায়ে পৌঁছেছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত তখন নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বার্কিনা ফাসোর ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি যাত্রার শর্ত নিয়েও আলোচনা উঠে আসে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটির পক্ষ থেকে ভ্রমণের আরও ভালো ব্যবস্থা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে এসব দাবির সঙ্গে বার্কিনা ফাসো ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে। ফেডারেশনের বক্তব্যে মূলত চার্টার বিমানের আকস্মিক বাতিলের বিষয়টিই সামনে এসেছে। তাই ম্যাচ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অবস্থান আলাদা করে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক সূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আগেই ঘোষণা করেছিল যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দলটি তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবার এস্তাদিও মারিও আলবের্তো কেম্পেসে বলিভিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা এবং ৪-০ গোলে জয় পায়। এরপর ৩ অক্টোবর মনুমেন্টালে বার্কিনা ফাসোর বিপক্ষে এবং ৬ অক্টোবর একই ভেন্যুতে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ বার্কিনা ফাসোর বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু আলাদা একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং আর্জেন্টিনার নির্ধারিত আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি পর্বের একটি অংশ।

ম্যাচটির ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে বুয়েনস আয়ার্সের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্টাল। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি ৩ অক্টোবর রাত ৯টায় শুরু হওয়ার কথা। ম্যাচের জন্য রেফারিং দলও আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। চিলির হোসে কাবেরো প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে সহকারী হিসেবে উইলাদিমির মুনিয়োস ও কার্লোস ভেনেগাস এবং চতুর্থ কর্মকর্তা হিসেবে ফের্নান্দো ভেখার দায়িত্বে ছিলেন। এসব প্রস্তুতি থেকে বোঝা যায়, ম্যাচটি আয়োজনের জন্য আয়োজক পক্ষ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল।

বার্কিনা ফাসোর দিক থেকে পরিস্থিতিটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে কারণ দলটি এর আগে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ২০২৭ সালের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে মরক্কোতে ছিল। ২৮ সেপ্টেম্বর কাসাব্লাঙ্কায় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিককে ১-০ গোলে হারানোর পর তাদের আর্জেন্টিনায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত চার্টার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এরপর নতুন পরিবহন ব্যবস্থা খোঁজা শুরু হয়। ম্যাচের ২৪ ঘণ্টারও কিছু বেশি সময় আগে দলটি এখনো মরক্কোতে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তারা কখন বুয়েনস আয়ার্সে পৌঁছাবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে মাঠে নামতে পারবে কি না।

এই সংকটের মধ্যে দুই দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় দ্রুত ভ্রমণ সমস্যার সমাধান করা। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আয়োজন করতে প্রস্তুত ছিল, অন্যদিকে বার্কিনা ফাসোকে নতুন যাত্রার ব্যবস্থা করে দ্রুত বুয়েনস আয়ার্সে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হচ্ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কূটনৈতিক পর্যায় থেকেও সমাধানের চেষ্টা চলছিল। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থাকায় ম্যাচের আয়োজন নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা-বার্কিনা ফাসো প্রীতি ম্যাচের অনিশ্চয়তার মূল কারণ ছিল বার্কিনা ফাসো দলের ভ্রমণ জটিলতা। নির্ধারিত চার্টার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় দলটি মরক্কোতে আটকে পড়ে এবং ম্যাচ শুরুর সময় ঘনিয়ে এলেও আর্জেন্টিনায় পৌঁছাতে পারেনি। তবে সেই পর্যায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যাচ বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তাই পরিস্থিতিকে ম্যাচ বাতিলের নিশ্চিত খবর হিসেবে নয়, বরং শেষ মুহূর্তের ভ্রমণসংকট থেকে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হয়। শেষ পর্যন্ত নতুন যাত্রার ব্যবস্থা এবং সময়মতো দলটির বুয়েনস আয়ার্সে পৌঁছানোর ওপরই নির্ভর করছিল নির্ধারিত ম্যাচটি স্বাভাবিকভাবে মাঠে গড়াবে কি না।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!