অ্যামাজন প্রাইমের আরও বেশি গ্রাহককে এবার সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে প্রাইম সেবায় যুক্ত করার অভিযোগের নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে করা ২৫০ কোটি ডলারের সমঝোতা সংশোধনের পর এই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
এফটিসি জানিয়েছে, সংশোধিত সমঝোতায় আগের তুলনায় আরও বেশি গ্রাহক অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে একজন গ্রাহকের সর্বোচ্চ ফেরতের পরিমাণ ৫১ ডলার থেকে বাড়িয়ে মোট ২০০ ডলার করা হয়েছে।
এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অ্যামাজন ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দিয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য মোট ১৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অ্যামাজনকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানাও দিতে হবে।
নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব গ্রাহক ২০১৯ সালের ২৩ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৩ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অ্যামাজন প্রাইমে যুক্ত হয়েছেন অথবা অনলাইন পদ্ধতিতে প্রাইম বাতিল করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন, তারা অর্থ ফেরতের যোগ্য হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ১২ মাসের মেয়াদে সর্বোচ্চ ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে হবে।
আগের নিয়মে কমসংখ্যক প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের আওতায় রাখা হয়েছিল। সংশোধিত নিয়মে ১১ থেকে ২০টি পর্যন্ত প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকদেরও নতুন করে অর্থ ফেরতের আওতায় আনা হয়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত লাখো গ্রাহক অর্থ পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন।
অতিরিক্ত যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ ফেরত ১ অক্টোবর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া শুরু হয়েছে। একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ মোট ২০০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। আগে যেসব গ্রাহক অর্থ পেয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে তাদের আরও সর্বোচ্চ ১৪৯ ডলার দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে একজনের মোট ফেরতের পরিমাণ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
অর্থ ফেরত দেওয়া হবে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট বা ডাকযোগে পাঠানো চেকের মাধ্যমে। ইলেকট্রনিক পেমেন্টের ক্ষেত্রে পেপ্যাল বা ভেনমো ব্যবহার করা হতে পারে। যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ পেতে কোনো আবেদন, নোটিশের জবাব বা আলাদা কোনো ফরম পূরণ করতে হবে না।
এফটিসি জানিয়েছে, সব যোগ্য গ্রাহককে ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অর্থ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা গ্রহণ করতে হবে; নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে অর্থ ফেরতের পেমেন্ট বাতিল হতে পারে।
এফটিসি আরও সতর্ক করেছে, অ্যামাজনের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে অ্যামাজনই। কমিশন এ বিষয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। কেউ এফটিসির পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ ফেরতের বিষয়ে যোগাযোগ করলে সেটি প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য কাউকে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!