স্মার্টফোনের ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে নতুন চমক নিয়ে বাজারে এসেছে iQOO 16। ফোনটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর 2K রেজল্যুশনের 165Hz OLED ডিসপ্লে, যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে Samsung Display-এর নতুন প্রজন্মের OLED প্রযুক্তি। Samsung Display-এর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, iQOO 16-এর জন্য তৈরি এই 6.9 ইঞ্চির OLED প্যানেল 2K রেজল্যুশন ও 165Hz রিফ্রেশ রেট একসঙ্গে দিতে সক্ষম এবং এতে সর্বোচ্চ ২,৮০০ নিট HBM উজ্জ্বলতা পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট ১ শতাংশ অন-পিক্সেল রেশিওতে স্থানীয় সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১০ হাজার নিট পর্যন্ত যেতে পারে।

এখানেই iQOO 16-এর ডিসপ্লে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। Samsung Display-এর নতুন M16 OLED উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এই প্যানেলে। Samsung Display জানিয়েছে, নতুন OLED প্রযুক্তিতে উচ্চ রিফ্রেশ রেটের পাশাপাশি উজ্জ্বলতা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য আনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির হিসাবে, আগের 1.5K 165Hz OLED প্রযুক্তির তুলনায় নতুন প্যানেলে ডিসপ্লের বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য অর্জন করা হয়েছে।

iQOO 16-এর ক্ষেত্রে Samsung Display-এর সঙ্গে যৌথভাবে উন্নত করা এই ডিসপ্লেতে 2K LEAD 2.0 প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে শুধু বেশি রিফ্রেশ রেট নয়, উচ্চ রেজল্যুশন, উজ্জ্বলতা ও পাওয়ার এফিশিয়েন্সিকেও একই প্যানেলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। iQOO-এর অফিসিয়াল তথ্যেও 2K 165Hz Samsung ডিসপ্লে, M16 emissive material এবং LEAD 2.0 প্রযুক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে ১০ হাজার নিটের বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই ১০ হাজার নিট পুরো স্ক্রিনের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা নয়। Samsung Display-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ শতাংশ OPR বা স্ক্রিনের খুব ছোট একটি অংশ সক্রিয় অবস্থায় এই সর্বোচ্চ স্থানীয় উজ্জ্বলতা অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে HBM মোডে প্যানেলটির সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ২,৮০০ নিট। ফলে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় পুরো স্ক্রিন সবসময় ১০ হাজার নিট উজ্জ্বল থাকবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

ডিসপ্লেটির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো 165Hz রিফ্রেশ রেট। সাধারণ 60Hz বা অনেক প্রিমিয়াম ফোনের 120Hz স্ক্রিনের তুলনায় 165Hz স্ক্রিন প্রতি সেকেন্ডে আরও বেশি ফ্রেম প্রদর্শন করতে পারে। বিশেষ করে দ্রুতগতির গেমিং, স্ক্রলিং এবং অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে এর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। iQOO 16-এ LTPO প্রযুক্তিও রয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী রিফ্রেশ রেট পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। এতে উচ্চ রিফ্রেশ রেটের মসৃণতা এবং প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব।

গেমিংয়ের কথা মাথায় রেখেই iQOO 16-এর অন্যান্য হার্ডওয়্যারও সাজানো হয়েছে। ফোনটিতে Qualcomm-এর নতুন Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে রয়েছে iQOO-এর নিজস্ব Q4 গেমিং চিপ। অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী প্রসেসরটি 2nm প্রক্রিয়ায় তৈরি এবং সর্বোচ্চ 5.01GHz পর্যন্ত ক্লক স্পিডে কাজ করতে পারে। ফোনটিতে 12GB ও 16GB RAM এবং সর্বোচ্চ 1TB স্টোরেজের বিকল্প রয়েছে।

গেমিংয়ের জন্য বড় ব্যাটারিও দেওয়া হয়েছে। iQOO 16-এ রয়েছে ৮ হাজার ৪০০mAh ব্যাটারি, যা বর্তমান ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। এর সঙ্গে ১০০ ওয়াট ওয়্যার্ড ফাস্ট চার্জিং এবং ৪০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা রয়েছে। দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় ফোনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে 8.5K VC ভ্যাপর চেম্বার কুলিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ক্যামেরার দিক থেকেও iQOO 16-কে শুধু গেমিং ফোন হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। পেছনে রয়েছে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এর মধ্যে প্রধান ক্যামেরায় বড় সেন্সর ও OIS সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি আলট্রাওয়াইড এবং 3x পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। ফোনটিতে IP68 ও IP69 রেটিংও রয়েছে, যা ধুলা ও পানির বিরুদ্ধে বাড়তি সুরক্ষা দেয়।

সফটওয়্যারের দিক থেকে iQOO 16 অ্যান্ড্রয়েড ১৭ ভিত্তিক OriginOS 7 নিয়ে এসেছে। ফোনটির ডিসপ্লে 6.85 ইঞ্চি এবং রেজল্যুশন 3168×1440 পিক্সেল। অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বিভিন্ন সংস্করণে ফোনটির ওজন প্রায় 222.5 থেকে 229.8 গ্রাম এবং পুরুত্ব 8.30 থেকে 8.55 মিলিমিটারের মধ্যে।

চীনে iQOO 16-এর বিক্রি শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। 12GB RAM ও 256GB স্টোরেজের বেস মডেলের দাম ৫,৯৯৯ ইউয়ান। 12GB+512GB সংস্করণের দাম ৬,৭৯৯ ইউয়ান, 16GB+512GB সংস্করণের দাম ৭,৪৯৯ ইউয়ান এবং 16GB RAM ও 1TB স্টোরেজের সর্বোচ্চ সংস্করণের দাম ৮,৪৯৯ ইউয়ান।

এখন প্রশ্ন হলো, Samsung-এর নিজেদের Galaxy ফোনে কি একই M16 প্রযুক্তি দেখা যাবে? বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ Galaxy মডেলগুলোতে নতুন প্রজন্মের OLED প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে Galaxy S27 Pro বা S27 Ultra-তে M16 ব্যবহারের নির্দিষ্ট দাবিগুলো এখনো Samsung-এর অফিসিয়াল ঘোষণা দিয়ে নিশ্চিত নয়। তাই এগুলোকে আপাতত বাজারের রিপোর্ট বা সম্ভাব্য তথ্য হিসেবেই দেখা উচিত। iQOO 16-এর ক্ষেত্রে অবশ্য Samsung Display নিজেই নিশ্চিত করেছে যে এই নতুন 2K 165Hz OLED প্যানেলটি iQOO 16-এ সরবরাহ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে iQOO 16-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু ৮ হাজার ৪০০mAh ব্যাটারি বা নতুন Snapdragon প্রসেসর নয়। Samsung Display-এর নতুন OLED প্রযুক্তি, 2K রেজল্যুশন, 165Hz রিফ্রেশ রেট, ২,৮০০ নিট HBM উজ্জ্বলতা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ১০ হাজার নিট স্থানীয় উজ্জ্বলতার সক্ষমতা ফোনটিকে ডিসপ্লে প্রযুক্তির দিক থেকে আলাদা করে তুলেছে। এর সঙ্গে বড় ব্যাটারি, ১০০ ওয়াট চার্জিং, ৪০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং এবং শক্তিশালী গেমিং হার্ডওয়্যার যুক্ত হওয়ায় iQOO 16 মূলত উচ্চক্ষমতার গেমিং ও ফ্ল্যাগশিপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক বাজারে ফোনটির প্রাপ্যতা ও দাম। বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী iQOO 16 চীনের বাজারে উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশে অফিসিয়ালভাবে কবে এবং কী দামে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চীনের দামকে বাংলাদেশের বাজারদর হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!