সরকারি তিতুমীর কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিতর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে শহীদ মামুন হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান রাকিবের বিরুদ্ধে। ছাত্রদল নেতাকে মারধর, নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের পরও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সেলিম রেজার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রাকিব।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

গত বছরের ২২ নভেম্বর সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ঘটনায় রোকনুজ্জামান রাকিবের নাম অভিযুক্তদের মধ্যে উঠে আসে। এ ঘটনায় বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন ফেস দ্য পিপলের তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি ও সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সহযোগী সদস্য আব্দুর রহমান তালুকদার।

তাঁর অভিযোগ, রাকিবের নেতৃত্বে ৭-৮ জন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় পাইপ ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয়।

যা বলছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক

হামলার বিষয়ে আব্দুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। আমি সেখানে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাই। হঠাৎ সেলিম রেজার অনুসারীদের মধ্য থেকে একজন বলে, ‘ও সাংবাদিক সমিতির, ওরে ধর।’ এরপর রোকনুজ্জামান রাকিবের নেতৃত্বে রকিফুল ইসলামসহ ৭-৮ জন আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হাতে থাকা পাইপ ও কাঠের লাঠি দিয়ে আমাকে মারধর করা হয়। এ সময় আমার মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়।

নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ

গত ৫ মে রাতে তিতুমীর কলেজের ছাত্রীনিবাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে রাকিবের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হলের গেটের সামনে অবস্থান নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা তাঁকে চলে যেতে বললে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং ‘বেশ্যা’ বলে গালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ৬ মে ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ চাওয়া তিতুমীর ছাত্রীদের ‘বেশ্যা’ আখ্যা দিলেন হল ছাত্রদলের সহ-সভাপতি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।

শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের অভিযোগ

রোকনুজ্জামান রাকিবের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাকিব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।

নিজ দলের নেতাকে মারধর

রাকিবের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন শহীদ মামুন হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হুসাইন নাঈমও। তাঁর দাবি, কয়েক দিন আগে কলেজ গেটসংলগ্ন এশিয়া ব্যাংকের নিচে বসে থাকার সময় রাকিবের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল স্টাম্প ও হকি স্টিক নিয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাকিব তাঁর ওপর হামলা করেন।

নাঈমের ভাষ্য, রাকিব ও তাঁর সঙ্গে থাকা সেলিম রেজার অনুসারীরা তাঁকে মারধর করতে এলে শুভ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শুভকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে রাশেদ নামে আরেকজন এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নয়ন নামে একজন তাঁকে স্টাম্প দিয়ে আঘাত করেন।

এ বিষয়ে জানতে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সেলিম রেজার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গত দুই দিন ধরে তাঁর ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!