ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নুনো মেন্দেসকে ঘিরে পর্তুগাল ফুটবলে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। রোনালদো নুনো মেন্দেসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনফলো করার পর মেন্দেসও রোনালদোকে আনফলো করেছেন। একই সঙ্গে লিওনেল মেসিকে ফলো করা শুরু করেছেন পর্তুগালের এই তারকা ডিফেন্ডার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই খেলোয়াড়ের অনুসরণ তালিকায় পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি দ্রুত ফুটবলবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। বিশেষ করে মেসির নাম যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি পেয়েছে আলাদা মাত্রা। কারণ রোনালদো ও মেসিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো ঘটনা বিশ্বজুড়ে ভক্তদের বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় পর্তুগাল জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে। রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে দলের খেলোয়াড়দের কাছে প্রশ্ন করা হচ্ছিল। নুনো মেন্দেসও রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তিনি জানান, রোনালদো জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় এবং দলের বর্তমান মনোযোগ নিজেদের কাজ ও কোচ জর্জ জেসুসের নির্দেশনায়। রোনালদোকে ঘিরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব খেলোয়াড়দের নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় দলে যে খেলোয়াড়ই যোগ দিন, তাকে স্বাগত জানানোর কথা বলেন মেন্দেস। তাঁর এই বক্তব্যের পরই রোনালদো ও মেন্দেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে নতুন ঘটনা সামনে আসে।
নুনো মেন্দেসের বক্তব্যের পর রোনালদোর পক্ষ থেকে তাঁকে আনফলো করার ঘটনা সামনে আসে। এরপর মেন্দেসও রোনালদোকে আনফলো করেন। এখানেই শেষ হয়নি বিষয়টি। মেন্দেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিওনেল মেসিকে অনুসরণ করার বিষয়টিও সামনে আসে। ফলে রোনালদো, মেন্দেস ও মেসিকে ঘিরে একসঙ্গে নতুন আলোচনা শুরু হয়। মেসির সঙ্গে মেন্দেসের পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। দুজনই প্যারিস সাঁ-জার্মেইনে একসঙ্গে খেলেছেন। সেই সময় মেসি ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান তারকা এবং মেন্দেসও দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাই মেন্দেসের মেসিকে ফলো করার ঘটনা সামনে আসায় পুরোনো ক্লাব-সম্পর্কের কথাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে রোনালদোর সঙ্গে মেন্দেসের সম্পর্কের পরিবর্তনটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। রোনালদো ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি এবং ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁর না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে রোনালদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, উপযুক্ত সময়ে জাতীয় দল ছাড়ার কারণ সম্পর্কে পর্তুগিজ জনগণকে সত্য জানাবেন।
রোনালদোর অনুপস্থিতিতে ডেনমার্কের বিপক্ষে মাঠে নামে পর্তুগাল। ম্যাচটিতে ৪–২ গোলের জয় পায় পর্তুগিজরা। ম্যাচের আগে রোনালদোকে ঘিরে নানা প্রশ্ন থাকলেও কোচ জর্জ জেসুস খেলোয়াড়দের মাঠের কাজে মনোযোগী রাখার চেষ্টা করেন। নুনো মেন্দেসও ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, দল অনুশীলনে যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছে, সেগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। একই সঙ্গে তিনি দলের ঐক্যের বিষয়টিও সামনে আনেন। মেন্দেসের বক্তব্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়রা একই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং দলের ভেতরের পরিস্থিতি মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে দেওয়া হয়নি।
তবে রোনালদোকে ঘিরে দলের ভেতরের পরিস্থিতি যে আলোচনার বাইরে ছিল না, সেটিও স্পষ্ট। পর্তুগালের ডিফেন্ডার রেনাতো ভেইগা জানিয়েছেন, তিনি রোনালদোর ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর প্রতি যথেষ্ট স্নেহ রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি জানান, রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। নুনো মেন্দেসকেও সাক্ষাৎকারের সময় রোনালদো-সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকতে দেখা যায়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রোনালদো ও মেন্দেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবর্তন ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করেছে। মেন্দেসের মেসিকে ফলো করা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, কারণ মেসি ও রোনালদোর নাম ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মেন্দেস এর আগে মেসির সঙ্গে একই ক্লাবে খেলেছেন এবং তাঁদের পেশাদার সম্পর্কও ছিল। ফলে মেসিকে ফলো করার বিষয়টি সামনে আসার পর ভক্তদের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবর্তনকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি মূলত দুই খেলোয়াড়ের অনুসরণ তালিকায় পরিবর্তনের একটি ঘটনা।
সব মিলিয়ে রোনালদো ও নুনো মেন্দেসের আনফলো, এরপর মেসিকে মেন্দেসের ফলো করা—এই ধারাবাহিক ঘটনা পর্তুগাল জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে মেন্দেস রোনালদোর বিষয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নয় এবং জাতীয় দল যে কোনো খেলোয়াড়কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের পারস্পরিক অনুসরণ বন্ধ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই মেসির নাম যুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। মাঠে পর্তুগাল ৪–২ ব্যবধানে ডেনমার্ককে হারিয়ে নিজেদের কাজ চালিয়ে গেলেও মাঠের বাইরের রোনালদো–মেন্দেস ঘটনা এখনো ফুটবলভক্তদের আলোচনায় রয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!