খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করে সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ জানিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।
সম্প্রতি এ ধরনের একটি প্রতারণামূলক চক্রের কর্মকাণ্ড নজরে আসার পর খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম, স্মারক এবং স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একটি অসাধু বা প্রতারকচক্র খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চাল-সংক্রান্ত স্মারক এবং খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ, বণ্টন ও বিপণন বিভাগের বিভিন্ন নথি ব্যবহার করছে। এসব নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে এমনভাবে কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে, যাতে এগুলো সরকারি দপ্তরের অনুমোদিত নথি বলে মনে হতে পারে।
এসব কাগজপত্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন চালকল প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাল কেনার কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তর স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। ফলে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ চাল কেনা, সরবরাহ বা অন্য কোনো কার্যক্রমের জন্য অর্থ চাইলে তা যাচাই না করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতারকচক্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের কারণে ক্ষতি হলে তার দায়ভার খাদ্য বিভাগ বা খাদ্য অধিদপ্তর নেবে না। তাই সংশ্লিষ্ট চালকল মালিক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্যদের সরকারি নথির সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, তাদের চাল ক্রয়ের নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া রয়েছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, খাদ্য অধিদপ্তর কথিত কোনো পদ্ধতিতে চাল ক্রয় করে না; বরং ই-জিপি সিস্টেমে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চাল ক্রয় করা হয়। ফলে এর বাইরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে চাল সরবরাহ বা অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের সতর্কবার্তাটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এ অবস্থায় চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সরকারি কর্মকর্তার নাম, স্বাক্ষর বা স্মারকযুক্ত কোনো চিঠি পেলেই তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চাল কেনা বা সরবরাহের নামে অর্থ চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!