জামায়াতে ইসলামী ইসলামি রাজনীতি ও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ডে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ইসলামি মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, ইসলামি মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে জামায়াতের শেখা উচিত। তার দাবি, জামায়াত ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

জামায়াতের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির কথাবার্তা ও কার্যক্রমে দ্বিচারিতা রয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্যে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে আলোচনায় বর্তমান সরকারকে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের প্রয়োজন কেন—এমন প্রশ্নও করেছেন হেফাজতের আমির।

তিনি আরও বলেন, যারা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের দায়িত্ব এখন ঐক্যবদ্ধ থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখা। তবে তার অভিযোগ, জামায়াতে ইসলাম রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পরিবর্তে কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, সে দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, জামায়াত একদিকে সরকারকে সহযোগিতার কথা বলছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে ১৯৯৬ সালের মতো আন্দোলনের চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সন্দেহ ও সংশয় রয়েছে।

রাশেদ খান আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভাষা ও জামায়াতের ভাষার মধ্যে বর্তমানে কোনো পার্থক্য নেই—এমনটাই তিনি মনে করছেন। ডিসেম্বরকে বিজয়ের মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই মাসে বিএনপিও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকবে। সরকারকে সহযোগিতা না করে যারা সরকার পতনের আন্দোলন করবে বা সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করবে, জনগণ তাদের রুখে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, জুমার দিনে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এবং দোয়া নিতে বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করেছেন এবং বিএনপি ও বাংলাদেশের মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে হেফাজতের নায়েবে আমির আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, সহকারী কমিশনার রহমত উল্লাহ, গণঅধিকার নেতা তৌহিদ, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর, যুবদল নেতা মোজাহারুল ইকবাল লাভলু, ছাত্রদল নেতা মহি উদ্দিন মেসি ও জিয়া মঞ্চের নেতা ওহিদুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!