ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের পাঁচ কন্যাকে ঘিরে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিবারটির জন্য আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ২ অক্টোবর সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে পাঁচ কন্যা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেয়।
ঘটনাটির সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগমকে ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট এবং তাঁদের মৃত্যুর পর পাঁচ কন্যার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিষয়টি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট ফরিদা বেগমের মরদেহ নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এর ৩১ দিন পর আবুল কালাম আজাদের মরদেহও একইভাবে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পরিবারটির দীর্ঘদিনের অভাব-অনটনের কথা উঠে এসেছে। কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগমের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্বজন ও স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায়। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ভাই শুকুর আলী জানিয়েছিলেন, মা-বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতির পাঁচ কন্যার মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে। অন্যদের মধ্যে কয়েকজনের পড়াশোনাও পারিবারিক সংকটের কারণে ব্যাহত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে মা-বাবা দুজনকে হারানোর পর শুধু মানসিক আঘাত নয়, তাঁদের শিক্ষা, থাকা-খাওয়া ও ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
এই পরিস্থিতিতে পরিবারটির দুরবস্থার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরপর তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর শুক্রবার সংগঠনটির সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি রাধানগর গ্রামে যায়।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রয়াত আবুল কালাম আজাদ ও ফরিদা বেগমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাঁচ কন্যার খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাটির বিষয়ে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে একই তথ্য পাওয়া গেছে।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদমাধ্যমে পরিবারটির দুরবস্থার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দল-মত নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এ সময় সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান ও আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারটির ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাঁচ কন্যার মধ্যে যারা এখনো পড়াশোনার বয়সে রয়েছে, তাদের শিক্ষা চালিয়ে নেওয়া, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবিকা ও অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা করা পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু এককালীন সহায়তার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিবেচিত হতে পারে।
দোহার থানার পক্ষ থেকে এর আগে আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলার কথা জানানো হয়েছিল। স্ত্রী ফরিদা বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটিও এর আগে স্থানীয়ভাবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে বলে সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়। দুই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটির আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের বিভিন্ন বক্তব্য সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে; তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আইনগত তদন্তের তথ্যকেই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়ে পাঁচ কন্যার পরিবারটি যে গভীর সংকটে পড়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সেটিই সামনে নিয়ে আসে। এরপর রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন ওই পাঁচ কন্যার ভবিষ্যৎ শিক্ষা, নিরাপত্তা ও জীবনযাপনে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!