বিশ্বকাপের পর নতুন অধ্যায়ের শুরুতেই দাপুটে ফুটবল উপহার দিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসিকে ছাড়া মাঠে নামা আলবিসেলেস্তেরা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে আর্জেন্টিনার কর্দোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের ১৯ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেস গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এরপর ২৯ মিনিটে নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো তৃতীয় গোল করেন। ম্যাচের শেষ দিকে ৮৬ মিনিটে হোসে ‘ফ্লাকো’ লোপেস চতুর্থ গোল করে আর্জেন্টিনার বড় জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচটির গুরুত্ব শুধু চার গোলের জয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বকাপের পর এটি ছিল আর্জেন্টিনার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং একই সঙ্গে মেসিকে ছাড়া নতুন বাস্তবতায় দলের পথচলার শুরু। মেসি এই ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না; আগামী ৭ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে তার বিদায়ী উপস্থিতির প্রস্তুতি চলছে। ফলে বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল স্কালোনির জন্য নতুন খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করার পাশাপাশি দলের নেতৃত্ব ও আক্রমণভাগের বিকল্পগুলো যাচাই করার সুযোগ। মেসির অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে লাওতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেজকে সামনে রেখে দল সাজানো হয়। মাঝমাঠেও তরুণ নিকো পাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা বল দখলে রেখে বলিভিয়াকে চাপে রাখে। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ১৯ মিনিটে আসে প্রথম সাফল্য। লাওতারো মার্তিনেস গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা। গোলের পরও আক্রমণের গতি কমায়নি আর্জেন্টিনা। বলিভিয়া নিজেদের অর্ধে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ থেকে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২৯ মিনিটে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান ২-০ হয়। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর গোল না হলেও দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। এই সময়টায় স্কালোনির দল বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাস এবং আক্রমণে খেলোয়াড়দের সমন্বয়ের মাধ্যমে ম্যাচের ওপর নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। দুই গোলের লিড থাকলেও আর্জেন্টিনা রক্ষণাত্মক হয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার বদলে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। এর ফল আসে ৫৪ মিনিটে। ক্রিস্তিয়ান ‘কুটি’ রোমেরো গোল করে আর্জেন্টিনার ব্যবধান ৩-০ করেন। রোমেরোর এই গোলটি ম্যাচে আর্জেন্টিনার আধিপত্যকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। বলিভিয়া তখন ম্যাচে ফেরার জন্য আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ ও মাঝমাঠের সংগঠিত অবস্থানের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বিশ্বকাপের পর নতুন নেতৃত্বের পথে এগোতে থাকা আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো তুলে ধরে।
ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণ আবারও সফল হয়। ৮৬ মিনিটে হোসে ‘ফ্লাকো’ লোপেস চতুর্থ গোল করে বলিভিয়ার ম্যাচে ফেরার শেষ সম্ভাবনাটুকুও শেষ করে দেন। ৪-০ গোলের ব্যবধান তখন ম্যাচের পুরো চিত্রই তুলে ধরছিল। আর্জেন্টিনা চারটি গোল করলেও শুধু আক্রমণেই নয়, রক্ষণেও ছিল নিয়ন্ত্রিত। বলিভিয়ার আক্রমণগুলোকে সামলে রেখে পুরো ম্যাচে নিজেদের ছন্দ ধরে রাখে স্কালোনির দল। অন্যদিকে বলিভিয়ার জন্য ম্যাচটি হয়ে ওঠে কঠিন পরীক্ষা। তারা আর্জেন্টিনার চাপ সামলে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজার পর চার গোলের ব্যবধানে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
এই জয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন পর্যায়ে দলের নেতৃত্ব ও খেলোয়াড়দের দায়িত্ব বণ্টন। মেসির অনুপস্থিতিতে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্কালোনি আগেই জানিয়েছিলেন, মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্দির পর রোমেরো অধিনায়কের ক্রমে এগিয়ে থাকবেন, এরপর থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস ও লাওতারো মার্তিনেস। বলিভিয়ার বিপক্ষে রোমেরোর হাতে আর্মব্যান্ড থাকার পাশাপাশি গোলও এসেছে তার পা থেকে। অন্যদিকে নিকো পাজের মতো তরুণ খেলোয়াড়রা নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। আর্জেন্টিনার এই নতুন পর্বে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ই এখন দলের অন্যতম আলোচনার বিষয়।
বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় তাই আর্জেন্টিনার জন্য শুধু একটি প্রীতি ম্যাচের ফল নয়; এটি বিশ্বকাপ-পরবর্তী নতুন যাত্রায় দলের আত্মবিশ্বাসেরও বড় বার্তা। মেসিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচেই চার গোল করে জয় পাওয়ায় আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের একাধিক খেলোয়াড় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। লাওতারো মার্তিনেস, নিকো পাজ, কুটি রোমেরো ও ফ্লাকো লোপেসের গোল দলটির স্কোরশিট সমৃদ্ধ করেছে। তবে সামনে আরও পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। ৪ অক্টোবর আর্জেন্টিনা বুয়েনস আইরেসে বুরকিনা ফাসোর মুখোমুখি হবে এবং ৭ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে মেসির বিদায়ী উপস্থিতি থাকবে। ফলে বলিভিয়ার বিপক্ষে এই জয় নতুন যুগের প্রথম অধ্যায়ে আর্জেন্টিনার জন্য একটি শক্তিশালী সূচনা হয়ে থাকল।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!