ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় পানির পাম্প চুরির সময় বাধা দেওয়া বা চোরদের দেখে ফেলায় বিন্দুমতি (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের চাপাতি দুর্গা মন্দিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিন্দুমতি ওই গ্রামের মৃত অলিন সরকারের স্ত্রী। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে কোনো একসময় চোরেরা গ্রামের রঞ্জন সরকারের (৩২) বসতবাড়িতে পানির পাম্প চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিন্দুমতি ঘুম থেকে উঠে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘরের দক্ষিণ পাশের গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি পানির পাম্প চুরি করতে থাকা ব্যক্তিদের দেখে ফেলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে। ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চোরেরা তার মাথায় সজোরে আঘাত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে বিন্দুমতি গলির মধ্যে পড়ে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে কী ধরনের বস্তু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে এবং ঠিক কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে নিহতের ছোট ছেলে রঞ্জন সরকার বৈরাগীরহাটে থাকা নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে ঢুকে তিনি স্ত্রী দিপালী রানীকে ডাকেন। এ সময় দিপালী রানী বাথরুমে যাওয়ার পথে গলির মধ্যে তার শাশুড়ি বিন্দুমতিকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে তার ডাক-চিৎকারে রঞ্জন সরকার সেখানে ছুটে আসেন। দুজন মিলে বৃদ্ধাকে গলি থেকে বারান্দায় এনে শুইয়ে দেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তার মাথায় হাত দিলে জমাট বাঁধা রক্ত দেখতে পান বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

এরপর পরিবারের অন্য সদস্য ও আশপাশের লোকজন সেখানে এসে বিন্দুমতিকে পরীক্ষা করেন। তখন তারা বুঝতে পারেন, তিনি আর বেঁচে নেই। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে দেখতে পান, নিহতের ছেলে গোলাপ সরকার, মিলাল সরকার ও রঞ্জন সরকারের বসতবাড়ির পানির পাম্পগুলোও নেই।

পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পানির পাম্প চুরি করতেই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ওই সময় বিন্দুমতি তাদের দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে চুরির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি যোগসূত্র এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো তদন্তাধীন।

ঘটনার খবর পেয়ে রুহিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। একই সঙ্গে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।

রুহিয়া থানা-পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

বৃদ্ধা বিন্দুমতির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি চুরি করতে গিয়ে একজন বৃদ্ধাকে হত্যার মতো ঘটনা কীভাবে ঘটল, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। আপাতত ঘটনাটি চুরি ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!