ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর বিসিক এলাকায় একটি ফার্মেসির শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ওষুধ ও নগদ টাকা চুরির ঘটনায় তিনজন চোরসহ এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া কিছু ওষুধ এবং সেগুলো পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পৌর শহরের গোবিন্দনগর বিসিক এলাকার সৌহার্দ ফার্মেসিতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই রাতে দুর্বৃত্তরা ফার্মেসিটির টিনের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দোকানে থাকা বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ এবং নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

চুরির ঘটনা জানার পর ফার্মেসির মালিক ও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা শুরু করে। ফুটেজের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে চুরি যাওয়া ওষুধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চুরি হওয়া কিছু ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি করা ওষুধ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ওষুধগুলো সৌহার্দ ফার্মেসি থেকে চুরি যাওয়া চালানের অংশ কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুরির ঘটনায় শুধু সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের নয়, চুরি করা ওষুধ গ্রহণ বা বিক্রির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির আরও সদস্যের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মালামালের পরিমাণ এবং চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া কিছু ওষুধ উদ্ধার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, ফার্মেসি থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ চুরির ঘটনায় শুধু দোকান মালিকের আর্থিক ক্ষতি নয়, ওষুধের সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ কারণে চুরি যাওয়া বাকি ওষুধ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র শনাক্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং উদ্ধার করা ওষুধ ও পিকআপের সঙ্গে ঘটনার সংশ্লিষ্টতা কীভাবে ছিল, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!