কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের সরকারি সেবা আরও সহজ ও ডিজিটালভাবে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘কৃষক কার্ড (Farmers Card) গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। গাইডলাইনে কৃষকের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয় তৈরি, সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া, কৃষি উপকরণ ও সেবা পাওয়ার সুযোগ, কৃষি ঋণ, বীমা, বাজারসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
গাইডলাইনের উদ্দেশ্য হিসেবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষকদের সমন্বিত কৃষি সেবা নিশ্চিত করে কৃষি ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ডিজিটাল পরিচয় ও বিভিন্ন কৃষিসেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গাইডলাইনে কৃষক কার্ডকে শুধু পরিচয়পত্র হিসেবে দেখা হয়নি। এতে কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ, কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট সেবাও এ ব্যবস্থার আওতায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
গাইডলাইনে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে e-Voucher ব্যবস্থায় সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও উপকরণ সহায়তা কৃষকের কাছে ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে QR কোড সংবলিত কৃষক কার্ড, মোবাইল ফোন বা মোবাইল অ্যাপের মতো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
কার্ডের সঙ্গে কৃষকের পরিচয় ও তথ্যও যুক্ত থাকবে। গাইডলাইনে কৃষকের নাম, ইউনিয়ন আইডি, উপজেলা ও জেলার নামসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য কার্ডে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। কার্ডে একটি ইউনিক QR কোড থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গাইডলাইনে সরকারি ভর্তুকি বা প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কার্ড-সংযুক্ত ব্যাংক হিসাবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য Government-to-Person (G2P) পদ্ধতির ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া কৃষক কার্ডকে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাইডলাইনে কৃষক কার্ডকে Taka Pay স্কিমের আওতায় একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কার্ডে থাকা অর্থ NPSB-সংযুক্ত ব্যাংক বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষকদের তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও সমন্বিত কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের কৃষিবিষয়ক ডিজিটাল সেবাগুলো পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের আলাদা চিঠিতেও গাইডলাইন অনুযায়ী মৎস্য চাষি ও মৎস্য আহরণকারীদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে কৃষক কার্ডের এসব সুবিধা গাইডলাইনে নির্ধারিত কাঠামোর অংশ। নথিতে কার্ড ব্যবস্থার বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে করার কথা বলা হয়েছে। ফলে গাইডলাইনে থাকা সব সুবিধা একই সময়ে সব কৃষকের জন্য চালু হয়েছে—এমন তথ্য নথিতে নেই।
তথ্যসূত্র: ‘কৃষক কার্ড (Farmers Card) গাইডলাইন, ২০২৬’।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!