অক্টোবর মাসে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে না। বরং সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ নির্ধারিত দামই অক্টোবরজুড়ে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ অক্টোবর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে। এতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে। অর্থাৎ ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকেও সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত একই দাম কার্যকর থাকবে।
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় সংক্রান্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ওই মূল্যহার অক্টোবর ২০২৬ মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলে অক্টোবর মাসে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না, আবার কমছেও না। সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যেই দেশের বাজারে চার ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। ওই সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে শুরু করে, যা পরবর্তী সময়েও অব্যাহত ছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও দেশের বাজারে দীর্ঘ সময় সে অনুযায়ী দাম বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছিল সরকার।
সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম রাখার ফলে এ লোকসানের চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয়, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
সেপ্টেম্বরের ওই মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়। কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অক্টোবর মাসে নতুন করে মূল্য পরিবর্তন না করায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নির্ধারিত এই দামই পুরো অক্টোবরজুড়ে কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ ভোক্তাদের জন্য অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম কমার যে প্রত্যাশা থাকতে পারে, আপাতত সেই অনুযায়ী কোনো মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
জ্বালানি তেলের দাম দেশের পরিবহন খাত থেকে শুরু করে কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পণ্য পরিবহনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে। ফলে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, আমদানি ব্যয়, ফ্রেইট চার্জ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ে বিবেচনায় আসতে পারে। তবে অক্টোবরের জন্য নতুন কোনো দাম নির্ধারণ করা হয়নি।
অতএব, ১ অক্টোবর থেকে দেশের বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা দামেই বিক্রি হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!