কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠের একটি সড়কের পাশ থেকে রাজা (২৫) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাজা পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের ইমান বিশ্বাসের ছেলে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরদেহটি ঘাস ও খড় দিয়ে আংশিকভাবে ঢাকা অবস্থায় ছিল। তার গলায় মাছ ধরার জাল প্যাঁচানো ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ছাড়া মরদেহের মাথা ও কোমরের কিছু অংশ শিয়ালে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে কৃষক সানাউল্লাহ মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। নির্জন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি কয়েকটি শিয়ালকে একটি বস্তু টানাটানি করতে দেখতে পান। কাছে যেতেই শিয়ালগুলো সরে যায়। পরে সেখানে ঘাস ও খড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
মরদেহটি দেখতে পেয়ে সানাউল্লাহ চিৎকার দিলে আশপাশের মাঠে থাকা অন্য কৃষকেরা সেখানে ছুটে আসেন। পরে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি কয়েক দিন আগের হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের কিছু অংশ শিয়ালে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ কারণে মরদেহের অবস্থাও বিকৃত হয়ে গেছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, মরদেহটি আনুমানিক দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো। মরদেহের মুখমণ্ডলসহ শরীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শিয়ালের টানাটানিতে মরদেহটি খড়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে। পরে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রাজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এবং মৃত্যুর আগে তার গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্রাইমসিন টিমের পরিদর্শন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। মরদেহের ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর নির্জন মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!