লিওনেল মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নতুন অধ্যায়ের প্রথম ম্যাচ ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষের পর দলটি এবার নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গোলবারে থাকছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণে আগুস্তিন গিয়াই, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ফাকুন্দো মেদিনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝমাঠে এক্সেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও নিকো পাজকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। আক্রমণভাগে মাতিয়াস সুলে, লাওতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের নাম রয়েছে। মেসিবিহীন এই দলটির দিকে তাই সবার নজর।

গোলবারের দায়িত্বে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ থাকায় আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকছে না। সামনে চারজনের রক্ষণে আগুস্তিন গিয়াই, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ফাকুন্দো মেদিনাকে দেখা যেতে পারে। রোমেরো দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং মেসির পর নেতৃত্বের দায়িত্বও তার কাঁধে আসছে। লিসান্দ্রোর উপস্থিতি রক্ষণে বল নিয়ন্ত্রণ ও পাসিংয়ের দিক থেকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। গিয়াইয়ের অন্তর্ভুক্তি আবার নতুন প্রজন্মের প্রতি কোচ লিওনেল স্কালোনির আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মেদিনা বাঁ দিক থেকে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আক্রমণেও উঠে আসতে পারেন। ফলে রক্ষণে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ই হতে পারে আর্জেন্টিনার নতুন কাঠামোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

মাঝমাঠে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ওপর থাকবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মেসি না থাকায় আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে শুধু একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে পুরো মাঝমাঠকে বেশি সক্রিয় হতে হবে। এক্সেকিয়েল পালাসিওস মাঝমাঠের ভারসাম্য ধরে রাখার পাশাপাশি বল পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্যদিকে ম্যাক অ্যালিস্টার সামনে বল এগিয়ে নেওয়া ও আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। নিকো পাজকে তুলনামূলকভাবে সৃষ্টিশীল ভূমিকায় ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। মেসির অনুপস্থিতিতে পাজের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে তার কাছ থেকে মেসির মতো একই ধরনের ভূমিকা আশা না করে দলীয় কাঠামোর মধ্যে তার সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোই হতে পারে স্কালোনির পরিকল্পনার অংশ।

আক্রমণভাগে মাতিয়াস সুলে, লাওতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের সমন্বয় আর্জেন্টিনার জন্য নতুন ধরনের আক্রমণ তৈরি করতে পারে। সুলে প্রান্ত থেকে গতি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে পারেন। লাওতারো বক্সের মধ্যে সুযোগ তৈরি ও ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। হুলিয়ান আলভারেজ আবার শুধু গোল করার জন্য নয়, প্রতিপক্ষের রক্ষণে জায়গা তৈরি এবং নিচে নেমে বল তৈরিতেও কার্যকর হতে পারেন। মেসি না থাকায় এই তিনজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনার আক্রমণে মেসির পাস, ড্রিবলিং ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বড় ভূমিকা রেখেছে। এবার সেই সৃষ্টিশীলতা একাধিক খেলোয়াড়কে ভাগ করে নিতে হবে।

মেসির অনুপস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে আর্জেন্টিনার আক্রমণ পরিচালনার ধরনে। এতদিন দলের আক্রমণের বড় অংশ মেসিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও এবার সেই নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজন হবে। স্কালোনির দলকে বল দখল, দ্রুত পাসিং এবং একাধিক দিক থেকে আক্রমণ তৈরি করতে হবে। ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকো পাজ, সুলে, লাওতারো ও আলভারেজ—প্রত্যেকের আলাদা ভূমিকা থাকবে। একজন খেলোয়াড়ের পরিবর্তে দলীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে মেসির শূন্যতা সামলানোর চেষ্টা করা হতে পারে। বিশেষ করে আলভারেজ ও লাওতারোর মধ্যে বোঝাপড়া আর্জেন্টিনার আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে। বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এই নতুন আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই প্রথম বড় পরীক্ষাগুলোর একটি।

এই ম্যাচটি শুধু একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনা মেসি-পরবর্তী সময়ের বাস্তবতা অনুভব করতে শুরু করবে। মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পথে থাকলেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ অধ্যায়ের আবেগ এখনো শেষ হয়নি। তার বিদায়ী ম্যাচ সামনে থাকায় বর্তমান ম্যাচটি হয়ে উঠছে ভবিষ্যতের দল তৈরির গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। মেসির দীর্ঘ সময়ের সতীর্থদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা এখন নিজেদের জায়গা তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছেন। নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও রোমেরোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তথ্যসূত্র : The Touchline

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!