নওগাঁ শহরে ছিনতাইয়ের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকার তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শহরের রুবীর মোড় এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ শহরের রজাকপুর এলাকা থেকে চার্জার রিকশায় করে স্টাফ কোয়ার্টারের দিকে যাচ্ছিলেন শাহানাজ আক্তার শিরিন। পথে রুবীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে তিন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কানে থাকা প্রায় পাঁচ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়া হলে নওগাঁ সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
পরে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. জামাল (৩৫), তার বাবা ইউসুফ সর্দার, মো. ফরিদ (৩৩), তার বাবা আব্দুর রব এবং মো. রবি (২৪), তার বাবা মাইনুদ্দিন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকায়।
পুলিশের ভাষ্য, আটক করার সময় তাদের কাছ থেকে একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চাকুটি ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আটক করার সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের মারধর করেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। পরে পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় নিয়মিত ছিনতাই মামলা করা হয়েছে। মামলার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিযুক্তদের আটকে সহযোগিতা করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসা এবং জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়ার বিষয়টিকেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ভূমিকা হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নওগাঁ শহরের ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলায় এমন ঘটনার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর ওপর গুরুত্ব রয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত বা আসামি হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!