লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শেষ ম্যাচ ঘিরে আবেগের পারদ যখন চরমে, তখনই সামনে এলো বড় এক অনুপস্থিতির খবর। মেসির বিদায়ী ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন না তার ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ পাওলো দিবালা ও নাহুয়েল মোলিনা। ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলারকে ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা ও বেনিনের ম্যাচে যোগ দিতে দেওয়া হবে না। আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় অনুযায়ী ম্যাচটি ৬ অক্টোবর হলেও বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সেটি ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এস্তাদিও মনুমেন্টালে আয়োজিত এই ম্যাচটি মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ উপস্থিতি হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে মেসির সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দুই সতীর্থের পুনর্মিলন এবার আর হচ্ছে না।
দিবালা ও মোলিনার এই ম্যাচে খেলার কথা ছিল না। বরং মেসির বিশেষ আমন্ত্রণে তারা বিদায়ী আয়োজনের অংশ হিসেবে মনুমেন্টালে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, আর মেসিও তার ঘনিষ্ঠ সতীর্থদের সঙ্গে শেষবারের মতো সময় কাটাতে চেয়েছিলেন। দিবালা ও মোলিনা দুজনই কাতারে মেসির সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক অভিযানের অংশ ছিলেন। সেই কারণে তাদের উপস্থিতি ম্যাচে অংশগ্রহণের চেয়ে প্রতীকী ও আবেগের দিক থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু রোমার সিদ্ধান্তে সেই বিশেষ পুনর্মিলন আর হচ্ছে না। ক্লাব জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা মেসির প্রতি সম্মানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
রোমার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে রয়েছে মূলত খেলাধুলা ও লজিস্টিক বিষয়। ইতালি থেকে আর্জেন্টিনায় যাওয়া এবং আবার ফিরে আসতে দীর্ঘ আন্তমহাদেশীয় বিমানযাত্রা করতে হয়। গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একেক দিকের যাত্রায় প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ যাওয়া-আসার জন্য দুই দীর্ঘ বিমানযাত্রা করতে হবে দুই ফুটবলারকে। এর সঙ্গে যোগ হবে সময়ের পার্থক্য, ভ্রমণজনিত ক্লান্তি এবং দলের অনুশীলনে অনুপস্থিতি। রোমার সামনে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব ম্যাচও রয়েছে। তাই ক্লাব কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই সময়ে দুই খেলোয়াড়কে এত দীর্ঘ ভ্রমণে পাঠালে তাদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে।
রোমার সিদ্ধান্তের আরেকটি বড় কারণ হলো ক্লাবের পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক সূচি। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে ১১ অক্টোবর কোমোর বিপক্ষে সিরি আ ম্যাচ খেলবে রোমা। এরপর সামনে রয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ফলে ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে মেসির বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আবার ইতালিতে ফেরার ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধান খুব কম। গাজেত্তার তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা থেকে ফেরার পর দিবালা ও মোলিনা রোমার হয়ে কোমোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে সীমিত সময়ের জন্যই দলের সঙ্গে থাকতে পারতেন। রোমা তাই আন্তর্জাতিক আবেগের এই বিশেষ মুহূর্তের চেয়ে খেলোয়াড়দের ক্লাব সূচি, বিশ্রাম ও প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
দিবালা ও মোলিনার পরিস্থিতিতেও রয়েছে আলাদা প্রেক্ষাপট। দিবালা এবার আর্জেন্টিনার ঘোষিত স্কোয়াডে নেই। ফলে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে তার মাঠে নামার সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে মোলিনাও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারছেন না। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফার দেওয়া সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তিনি ভোগ করছেন। তাই দুজনের ক্ষেত্রেই মেসির বিদায়ী ম্যাচে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল মূলত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা এবং জাতীয় দলের অধিনায়ককে শেষবারের মতো সম্মান জানানো। মেসির সঙ্গে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি থাকায় এই উপস্থিতি দুই খেলোয়াড়ের জন্যও বিশেষ অর্থ বহন করত। কিন্তু রোমার সিদ্ধান্তে এবার তারা ইতালিতেই থাকবেন।
এদিকে মেসির বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে আর্জেন্টিনায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মেসিকে জাতীয় দলের হয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কোচ লিওনেল স্কালোনিও জানিয়েছেন, মেসিকে আরেকবার জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায় জানানোর জন্য তিনি চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি সেই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মেসি এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ম্যাচটির তারিখ হবে ৭ অক্টোবর, কারণ আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ কয়েক ঘণ্টা এগিয়ে। মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যে টিকিটের চাহিদাও ব্যাপক হয়েছে।
রোমা অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেসির প্রতি কোনো অসম্মান দেখাতে চায়নি। ক্লাবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ারের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও মেসির জন্য বিশেষ সন্ধ্যার শুভকামনা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ দিবালা ও মোলিনাকে আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মূলত দীর্ঘ আন্তমহাদেশীয় ভ্রমণ এবং সামনে থাকা ক্লাব ম্যাচের সময়সূচির কারণে নেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সময় ৭ অক্টোবর মেসির শেষ আর্জেন্টিনা ম্যাচে মনুমেন্টালে একাধিক বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থকে দেখা গেলেও দিবালা ও মোলিনার উপস্থিতি থাকবে না। মেসির বিদায়ের মঞ্চে এই দুই পরিচিত মুখের অনুপস্থিতি তাই আয়োজনটির আবেগঘন মুহূর্তে একটি উল্লেখযোগ্য শূন্যতা তৈরি করবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!