নরসিংদীর মনোহরদীতে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রবি মিয়া (৬০) নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইয়াসিনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ১টার দিকে মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মজিদপুরের গুইলের টেক এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে রবি মিয়াসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় রবি মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রবি মিয়া ওই এলাকার ডেঙ্গু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। ঘটনার দিন দুপুরে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিপক্ষের মান্নানের ছেলে সজীবসহ আরও কয়েকজনও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। তবে সংঘর্ষের সময় কার কী ভূমিকা ছিল, তা মামলার তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবি মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পরে মনোহরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় পূর্ব মজিদপুর গ্রামের হরযত আলীর ছেলে মো. ইয়াসিনকে ৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার পর ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি নয়া আটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ইয়াসিনের বয়স ৩৭ বছর। তিনি পূর্ব মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার মায়ের নাম মৃত মল্লিকা খাতুন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, রবি মিয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইয়াসিনকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ইয়াসিনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তবে মামলার এজাহারে আসামি করা হলেও ইয়াসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারিত হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!