চীনের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন হয়েছে iQOO 16। নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে রয়েছে কোয়ালকমের Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 চিপসেট, ৮৪০০mAh ব্যাটারি, ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেটের ২K+ AMOLED ডিসপ্লে এবং তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চীনে ফোনটির ঘোষণা দেওয়া হয় এবং একই দিন থেকে বিক্রিও শুরু হয়েছে।

iQOO 16-এর অন্যতম আকর্ষণ এর ৬.৮৫ ইঞ্চির Samsung M16 AMOLED ডিসপ্লে। এতে ১৪৪০ × ৩১৬৮ পিক্সেল রেজোলিউশন এবং ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেট রয়েছে। ডিসপ্লেটির স্থানীয় সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১০ হাজার নিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো স্ক্রিনে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতাও ২৮০০ নিট পর্যন্ত। উচ্চ রিফ্রেশ রেট ও উজ্জ্বলতার কারণে গেমিং, ভিডিও দেখা এবং দ্রুত স্ক্রলিংয়ে উন্নত ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে এই ফোনে।

পারফরম্যান্সের জন্য ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6। এটি Qualcomm-এর নতুন প্রজন্মের ফ্ল্যাগশিপ চিপসেটগুলোর একটি, যা ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এবং Oryon CPU, নতুন Adreno GPU ও Hexagon NPU ব্যবহার করে। Qualcomm-এর দাবি অনুযায়ী, আগের প্রজন্মের Snapdragon 8 Elite Gen 5-এর তুলনায় Extreme Gen 6-এ CPU, GPU ও AI পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি রয়েছে।

iQOO 16-এ চিপসেটের সঙ্গে LPDDR5X Ultra RAM এবং UFS 4.1 স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৬GB RAM ও ১TB স্টোরেজ পর্যন্ত সংস্করণ পাওয়া যাবে। গেমিং পারফরম্যান্স আরও বাড়াতে ফোনটিতে iQOO-এর নিজস্ব Q4 গেমিং চিপও রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্যামেরার ক্ষেত্রেও ফ্ল্যাগশিপ ফোনটিতে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর দেওয়া হয়েছে। প্রধান ক্যামেরায় রয়েছে ১/১.৩ ইঞ্চি টাইপ সেন্সর এবং অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা OIS। সঙ্গে রয়েছে অটোফোকাসসহ ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা এবং OIS সমর্থিত ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা। টেলিফটো ক্যামেরায় ৩x অপটিক্যাল জুম, ৬x ‘লসলেস’ জুম এবং সর্বোচ্চ ১০০x ডিজিটাল জুমের সুবিধা রয়েছে। সামনে সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য ৩২ মেগাপিক্সেলের ফিক্সড-ফোকাস ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাটারির দিক থেকে iQOO 16 বেশ বড় সক্ষমতার ব্যাটারি নিয়ে এসেছে। এতে রয়েছে ৮৪০০mAh ব্যাটারি। দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য ১০০W ওয়্যার্ড চার্জিং এবং ৪০W ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন রয়েছে। এত বড় ব্যাটারির সঙ্গে ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট ও উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় গেমিং ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ফোনটি Android 17-ভিত্তিক vivo-এর OriginOS 7 অপারেটিং সিস্টেমে চলে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে আলট্রাসনিক ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। পাশাপাশি ফোনটি IP68 ও IP69 রেটিং পেয়েছে, যা ধুলা ও পানির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা নির্দেশ করে।

ডিজাইনের ক্ষেত্রে iQOO 16-এ নতুন ধরনের বর্গাকার ক্যামেরা মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির তিনটি রঙের নাম ইংরেজি থেকে আনুমানিকভাবে ‘Chasing Light’, ‘Racetrack’ ও ‘Legend’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্করণভেদে ফোনটির পুরুত্ব প্রায় ৮.৩ থেকে ৮.৫৫ মিলিমিটার এবং ওজন প্রায় ২২২.৫ থেকে ২২৯.৮ গ্রাম।

চীনে iQOO 16-এর চারটি RAM ও স্টোরেজ সংস্করণ রাখা হয়েছে। ১২GB RAM ও ২৫৬GB স্টোরেজের দাম ৫,৯৯৯ ইউয়ান। ১২GB RAM ও ৫১২GB স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৬,৭৯৯ ইউয়ান। ১৬GB RAM ও ৫১২GB স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৭,৪৯৯ ইউয়ান। আর ১৬GB RAM ও ১TB স্টোরেজের শীর্ষ সংস্করণের দাম ৮,৪৯৯ ইউয়ান।

তবে এখনো চীনের বাইরে iQOO 16-এর আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আগের প্রজন্মের iQOO ফ্ল্যাগশিপগুলো চীনের বাইরে বাজারে এসেছে, তবে iQOO 16-এর ক্ষেত্রে কোন কোন দেশ, কবে এবং কী দামে ফোনটি পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত নয়। ফলে বাংলাদেশ বা ভারতের বাজারে সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্যকে নিশ্চিত হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।

সব মিলিয়ে iQOO 16-এ বড় ব্যাটারি, উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে, নতুন প্রজন্মের ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট এবং তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা মিলিয়ে পারফরম্যান্স ও গেমিংকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রকৃত মূল্য ও প্রাপ্যতা জানা গেলে তখনই বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফোনটির অবস্থান আরও পরিষ্কার হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!