কর্মজীবন ও মাতৃত্বের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো নারীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক একটি ব্যক্তিগত কমিউনিটি চালু করছে মার্কিন ব্যবসা ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী ফাস্ট কোম্পানি। ‘এম স্যুট’ নামের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিনিয়র পর্যায়ের কর্মজীবী মা এবং প্রচলিত চাকরির কাঠামোর বাইরে থাকা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা যোগাযোগ ও কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।

ফাস্ট কোম্পানির এই নতুন উদ্যোগের খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এম স্যুটে থাকবে একটি ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, সাপ্তাহিক বিশেষ নিউজলেটার, বিশেষ সম্পাদকীয় কনটেন্ট এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে শুধু সংবাদ বা তথ্য সরবরাহ নয়, পাঠকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও সরাসরি সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কমিউনিটিটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এমন মায়েদের জন্য সীমিত রাখা হয়েছে, যারা পরিচালক পর্যায় বা তার ওপরে কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রচলিত চাকরির বাজার ছেড়ে নিজস্ব ব্যবসা বা উদ্যোগ পরিচালনা করছেন এমন নারী প্রতিষ্ঠাতারাও এতে যুক্ত হতে পারবেন। ফাস্ট কোম্পানির সাবস্ক্রিপশনের সঙ্গে এম স্যুট কমিউনিটির সদস্যপদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কমিউনিটিতে সদস্যদের জন্য বিশেষ ভার্চুয়াল ও সরাসরি আয়োজনও করা হবে। কিছু অনুষ্ঠান শুধু সদস্যদের জন্য থাকবে, আবার কিছু অনুষ্ঠান বৃহত্তর দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট বা এসএক্সএসডব্লিউর মতো বড় সম্মেলনেও এম স্যুটের প্যানেল আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে এম স্যুটের সদস্যসংখ্যা ৪৮ জন। কয়েক দফা পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর এই সদস্যরা কমিউনিটিতে যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও সদস্য যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফাস্ট কোম্পানির লক্ষ্য, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সদস্যসংখ্যা প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জনে নিয়ে যাওয়া।

এই উদ্যোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপকে বেছে নেওয়ার পেছনে ব্যবহারকারীদের অভ্যাসকে গুরুত্ব দিয়েছে ফাস্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ডিজিটাল পরিচালক মাইয়া ম্যাকক্যান বলেন, অনেক কর্মজীবী মা ইতোমধ্যে সন্তান ও অভিভাবকত্বসংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। ফলে নতুন কোনো আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরি না করে ব্যবহারকারীরা যে জায়গায় আগে থেকেই সক্রিয়, সেখানেই কমিউনিটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফাস্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সদস্যদের আগ্রহ বা অবস্থান অনুযায়ী এম স্যুটের ভেতরে আলাদা ছোট গ্রুপ তৈরি করা সম্ভব হবে। এর ফলে একই ধরনের পেশাগত বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আরও নির্দিষ্টভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন।

এম স্যুটের ধারণাটি তৈরি হয় ফাস্ট কোম্পানির একটি লিংকডইন পোস্ট থেকে। প্রতিষ্ঠানটির স্টাফ এডিটর শালেন গুপ্তা সিনিয়র পর্যায়ের কর্মজীবী মায়েদের উদ্দেশে জানতে চেয়েছিলেন, তারা কীভাবে ক্যারিয়ার ও সন্তান পালনের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাচ্ছেন। সেই পোস্টে পাওয়া প্রতিক্রিয়াগুলো পরবর্তীতে ফাস্ট কোম্পানির একটি বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তি তৈরি করে।

‘করপোরেট আমেরিকা ইজ ক্রাশিং সিনিয়র লেভেল মাদার্স’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে সিনিয়র পর্যায়ের কর্মজীবী মায়েদের অভিজ্ঞতা ও তারা কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন তা তুলে ধরা হয়। এরপর চলতি মাসের শুরুতে ফাস্ট কোম্পানির ইনোভেশন ফেস্টিভ্যালেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

ইনোভেশন ফেস্টিভ্যালে সংশ্লিষ্ট একটি প্যানেল থেকে প্রকাশিত দুটি ভিডিও ক্লিপ ফাস্ট কোম্পানির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্টের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া কনটেন্টে পরিণত হয় বলে জানিয়েছেন ম্যাকক্যান। তাঁর দাবি, ভিডিওগুলো প্রায় পাঁচ লাখ ভিউ পায় এবং ৭০০-এর বেশি নতুন অনুসারী যুক্ত হয়।

এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন সংবাদ ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সার্চ ইঞ্জিন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া দর্শকদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার চেষ্টা করছে। সার্চ ও সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম বা ট্রাফিকের ওপর নির্ভরতা পরিবর্তিত হওয়ায় প্রকাশকেরা পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার বিভিন্ন মডেল নিয়ে পরীক্ষা করছে।

এর আগে ওয়্যার্ডও তাদের সবচেয়ে অনুগত পাঠকদের লক্ষ্য করে নতুন একটি অ্যাপ চালু করেছে, যেখানে সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরসহ কমিউনিটি ফিচার রাখা হয়েছে। ফলে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু ওয়েবসাইটে কনটেন্ট প্রকাশের পাশাপাশি পাঠকদের জন্য আলাদা কমিউনিটি তৈরির প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

ফাস্ট কোম্পানির কাছে এম স্যুটের আরেকটি লক্ষ্য হলো সাবস্ক্রিপশনের মূল্য বাড়ানো এবং সদস্যদের আরও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রাখা। ভবিষ্যতে এই কমিউনিটিকে ঘিরে স্পনসরশিপ, কনটেন্ট এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৭ সালে এম স্যুট সদস্যরা কোথায় এবং কীভাবে একত্রিত হতে চান, তা জানতে ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে জরিপ শুরু করেছে ফাস্ট কোম্পানি। ভবিষ্যতে একই ধরনের কমিউনিটি মডেল অন্য শ্রেণির পাঠকদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে। ফ্রিল্যান্স ডিজাইনারদের মতো নির্দিষ্ট পেশাজীবী গোষ্ঠীর জন্যও এমন কমিউনিটি তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফলে এম স্যুট শুধু একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নয়, বরং সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পাঠকদের সম্পর্ককে আরও সরাসরি ও ব্যক্তিগত করার একটি পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে সামনে এসেছে। কনটেন্ট, নিউজলেটার, অনুষ্ঠান এবং পারস্পরিক যোগাযোগকে একই কমিউনিটির আওতায় এনে ফাস্ট কোম্পানি তাদের নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!