দেশের রাবার বাজারে বিক্রি, ক্রয়, আমদানি-রপ্তানি ও লাইসেন্স ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে ‘রাবার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায়। প্রস্তাবিত আইনে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডকে রাবার বিক্রির সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ, বাজারে রাবার বিক্রি বা ক্রয়ের জন্য লাইসেন্স দেওয়া এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রাবার আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা ২০ পৃষ্ঠার খসড়া আইনে রাবার বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একাধিক ধারা রাখা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে রাবার বিক্রির জন্য রাবার আমদানি বা রাবার ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য প্রযোজ্য ও বৈধ হবে।
খসড়ার আরেকটি প্রস্তাবে রাবার বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বোর্ডকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যবসা পরিচালনার সময় নির্দিষ্ট ধরনের রাবারের জন্য সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে বোর্ড।
রাবার বিপণন ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, বোর্ডের দেওয়া লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি রাবার বিক্রি বা অন্যভাবে ব্যবসা করতে পারবেন না এবং লাইসেন্স ছাড়া রাবার কেনা বা অন্যভাবে অর্জনের সুযোগও থাকবে না।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় লাইসেন্স বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। লাইসেন্স নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কার্যকর থাকবে এবং বোর্ড বিধিতে উল্লেখিত পদ্ধতিতে কারণ লিপিবদ্ধ করে কোনো লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে। লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন বলেও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।
রাবার আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়া আইনে সরকার সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশের মাধ্যমে রাবার আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ, সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিধান করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি এ ধরনের আদেশ লঙ্ঘন করলে জরিমানা বা লাইসেন্স বাতিলের বিধানের প্রস্তাব রয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিল, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
রাবার ক্রয়, বিক্রয় বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও লাইসেন্সের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া রাবার ক্রয়, বিক্রয় বা সংরক্ষণ করা যাবে না এবং কোনো ব্যক্তির দখলে থাকা রাবারও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ আদালত দিতে পারবেন বলে খসড়ায় বলা হয়েছে।
রাবারের মান নিয়েও বোর্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত, প্রক্রিয়াজাতকৃত, আমদানি বা রপ্তানি করা রাবারের বিভিন্ন ধরনের মান নির্ধারণ, নির্ণয়, চিহ্নিতকরণ, লেবেলিং ও প্যাকেজিংয়ের মান প্রত্যয়নের বিধান রাখা হয়েছে। বোর্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যুক্তিসঙ্গত সময়ে ডিলার, প্রক্রিয়াজাতকারী, প্রস্তুতকারক বা রপ্তানিকারকের কারখানা, প্রাঙ্গণ বা গুদামে রাবার পরিদর্শন করতে পারবেন।
এ ছাড়া রাবার আমদানিকারককে প্রতিটি চালানের জন্য জাহাজীকরণের আগে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বোর্ড থেকে লাইসেন্স নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমদানিকৃত রাবারের চালান কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খালাসের পর ১৪ দিনের মধ্যে রপ্তানিকারক দেশের নাম, রাবারের গ্রেড, পরিমাণ, আমদানি মূল্য ও ব্যবহার-সংক্রান্ত তথ্য বোর্ডে পাঠাতে হবে বলেও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।
রাবার রপ্তানির ক্ষেত্রেও লাইসেন্সের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে বাগানে উৎপাদিত বিক্রয়যোগ্য রাবারের নির্দিষ্ট অংশ নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নির্দেশ দিতে পারবে এবং বাগান মালিক সরাসরি কত পরিমাণ রাবার বিক্রি করতে পারবেন, সেটিও নির্ধারণ করতে পারবে।
তবে এসব বিধান এখনো খসড়া আইনের প্রস্তাব। সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে কার্যকর নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
তথ্যসূত্র: প্রস্তাবিত ‘রাবার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!