বাংলাদেশের রাবার খাতকে সময়োপযোগী করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রাবার বোর্ড আইন, ২০১৩ রহিত করে ‘রাবার আইন, ২০২৬’ নামে নতুন আইন প্রণয়নের খসড়া প্রস্তুত করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। খসড়ায় রাবার চাষ, উৎপাদন, বাজার, আমদানি-রপ্তানি, লাইসেন্স, বোর্ডের ক্ষমতা এবং অপরাধ ও দণ্ডের বিষয়ে নতুন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আইন-২ শাখা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার কাছে খসড়া আইনের ওপর মতামত চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রাবার বোর্ড আইন, ২০১৩ রহিতক্রমে সময়োপযোগী করে পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে ‘রাবার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তুতকৃত খসড়া আইনের ছায়ালিপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও তা প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার কাছ থেকে আইনটির ওপর মতামত নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মতামত অথবা মতামত না থাকলে ‘শূন্য প্রতিবেদন’ পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাবার চাষের জন্য মাটি ও জলবায়ু উপযোগী এবং ১৯৬০-৬১ সালে দেশে রাবার চাষের সূচনা হওয়ার পর থেকে এর সম্ভাবনা দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে রাবার চাষের উন্নয়নের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়ায় রাবার চাষ ও রাবার শিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্যের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে রাবারের চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে রাবার ও রাবারজাত পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। কৃত্রিম রাবারের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কার কথাও খসড়ার প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে দেশীয় রাবার ও রাবার শিল্পের সুরক্ষা, টেকসই রাবার চাষ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, নতুন আইনটির নাম হবে ‘রাবার আইন, ২০২৬’। এতে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডকে নতুন আইনের অধীন বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বোর্ডকে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে রাখা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন, অধিকারে রাখা ও হস্তান্তরের ক্ষমতার বিধানও খসড়ায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে বোর্ডের গঠনেও বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, বোর্ডের দুই পরিচালক, রাবার বাগান রয়েছে এমন বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, নিবন্ধিত রাবার বাগান মালিক সমিতি ও রাবার শিল্প সমিতির প্রতিনিধি, রাবার উৎপাদনকারী চা বাগানের প্রতিনিধি এবং রাবার বিশেষজ্ঞকে বোর্ডে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়ায় বোর্ডের কার্যাবলির মধ্যে টেকসই ও সমন্বিত রাবার চাষ, উৎপাদন, মান, বিপণন ও গবেষণাসংক্রান্ত নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, রাবার চাষ উপযোগী জমি চিহ্নিত করা, রাবার বাগান ও শিল্পের উন্নয়নে সহায়তা এবং সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার বিষয় রাখা হয়েছে।

তবে এটি এখনো খসড়া আইন। সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণের পর এর পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে, তা এই নথিতে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। ফলে প্রস্তাবিত বিধানগুলোকে কার্যকর আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তথ্যসূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আইন-২ শাখার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের চিঠি এবং সংযুক্ত ‘রাবার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!