বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তামিম ইকবালের নাম। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের পরবর্তী সভাপতি হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল—এমন খবর প্রকাশ করেছে ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ। বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। এরপর এশিয়ার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তামিমের আগ্রহ সেই আলোচনাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বা এসিসি হলো এশিয়ার ক্রিকেট পরিচালনা ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক সংস্থা। বিভিন্ন পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে পালাক্রমে এই সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে প্রেসিডেন্ট রোটেশনের তালিকায় যুক্ত করা হয়। এর আগে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এই ঘূর্ণায়মান ব্যবস্থায় ছিল। ফলে ভবিষ্যতে সভাপতির দায়িত্ব নির্ধারণে সদস্যদেশগুলোর রোটেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সভায় তামিম ইকবালও উপস্থিত ছিলেন।
তামিমের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনে এটি অবশ্য নতুন কোনো ক্ষেত্র নয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলেই তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্বে আসেন। পরে জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পূর্ণ মেয়াদের জন্য বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন। ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে চার বছরের মেয়াদ পান। এর আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তামিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে বিসিবির প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কারণে এখন তাকে আঞ্চলিক ক্রিকেট প্রশাসনের সম্ভাব্য নেতৃত্বের সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।
এসিসি সভাপতির দায়িত্বে তামিম এলে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের পরিধি আরও বড় হবে—তবে সেটি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। কারণ সভাপতির পদে কাউকে বসানোর আগে সংশ্লিষ্ট সদস্য বোর্ডগুলোর রোটেশন ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের সাধারণ সভায় আফগানিস্তানকে নতুন করে রোটেশনে যুক্ত করার সিদ্ধান্তও দেখিয়েছে যে ভবিষ্যতের সমীকরণ আগের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তামিমকে সামনে আনা হবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পাবেন কি না, সেটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো—তামিম এই দায়িত্বে আগ্রহী বলে খবর এসেছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
এই আলোচনার সময়টিও বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালে বাংলাদেশে পুরুষদের এশিয়া কাপ আয়োজনের কথা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে একই সময়ে বিসিবির নেতৃত্বে থাকা তামিম যদি এসিসির সভাপতির দায়িত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থী হন, তাহলে আঞ্চলিক ক্রিকেট প্রশাসনে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে এশিয়া কাপ আয়োজন এবং এসিসি সভাপতির পদ—দুটি আলাদা প্রশাসনিক বিষয়। কোনো একটি দায়িত্ব বা আয়োজনের কারণে অন্য পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় না। তাই সম্ভাব্য নিয়োগের ক্ষেত্রে এসিসির সাংগঠনিক নিয়ম এবং সদস্য বোর্ডগুলোর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিষয় হবে।
তামিম এরই মধ্যে এসিসির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলের এক সিদ্ধান্তে বিসিবি তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেয়। আগস্টের এসিসি বার্ষিক সাধারণ সভাতেও তিনি অংশ নেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের প্রধান হিসেবে আঞ্চলিক পর্যায়ের বৈঠক ও কার্যক্রমে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব কারণে ২০২৭ সালে এসিসির নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘিরে তামিমের নাম আলোচনায় আসা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তামিম ইকবালের সামনে এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশাপাশি এশিয়ান ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনার আলোচনা তৈরি হয়েছে। মোহসিন নকভির বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী সভাপতি কে হবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি। তামিমের আগ্রহের খবর প্রকাশ পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে এসিসির প্রেসিডেন্সি রোটেশনে আফগানিস্তানের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যৎ সমীকরণকে আরও বিস্তৃত করেছে। তাই আপাতত তামিমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এসিসি ও সংশ্লিষ্ট সদস্য বোর্ডগুলোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!