ব্রাজিলের অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ৪–২ গোলের বড় জয় এলেও দলটির জন্য স্বস্তির বদলে কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাফিনহার শারীরিক সমস্যা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ এই খেলোয়াড় ডান উরুতে অস্বস্তি অনুভব করেন এবং প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর আর মাঠে ফেরেননি। ম্যাচের প্রথমার্ধে রাফিনহা ব্রাজিলের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। কিন্তু বিরতির সময় তার শারীরিক সমস্যার বিষয়টি সামনে আসায় দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফলে ম্যাচের ফল ব্রাজিলের পক্ষে গেলেও রাফিনহার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নজর এখন সবার।

রাফিনহার এই সমস্যাটি সামনে আসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ায় এবং প্রথম ম্যাচের মাত্র চার দিন পরই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আবার মাঠে নামে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে রাফিনহা পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং আক্রমণভাগে দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চার দিন পর আনচেলত্তি তাকে আবারও শুরুর একাদশে রাখেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে তিনি আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন এবং পেনাল্টি থেকে গোলও করেন। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সময় ডান উরুতে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। এরপর চিকিৎসা দলের মূল্যায়নের পর তাকে আর ঝুঁকি না নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাফিনহার মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আগে ম্যাচে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ভান্দেরসনের গোলে ব্রাজিল এগিয়ে যায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে আলেসান্দ্রো চিরকাতি ও কনর মেটকাফের গোলে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিল পেনাল্টি পেলে সেই সুযোগ কাজে লাগান রাফিনহা। তার গোলে স্কোরলাইন ২–২ হয় এবং দুই দল সমতায় থেকে বিরতিতে যায়। তবে বিরতির সময় রাফিনহার শারীরিক অস্বস্তির কারণে ব্রাজিলের একাদশে পরিবর্তন আসে। তার পরিবর্তে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন এন্দ্রিক। রাফিনহা আর মাঠে না ফিরলেও ব্রাজিল পরের সময়ে নিজেদের আক্রমণ আরও কার্যকর করে তোলে।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। রাফিনহার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের দায়িত্ব অন্য খেলোয়াড়রা সামলান। ৬৯ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েস গোল করে ব্রাজিলকে আবারও এগিয়ে দেন। এরপর অস্ট্রেলিয়া সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ তাদের আর সুযোগ দেয়নি। ম্যাচের শেষদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেনাল্টি থেকে গোল করলে ব্রাজিলের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪–২। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনেই ম্যাচ শেষ হয়। ফলে দুই ম্যাচের অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্রাজিলের একটি জয় ও একটি ড্র হলো। তবে জয়ের পাশাপাশি রাফিনহার মাঠ ছেড়ে যাওয়াই ম্যাচের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

রাফিনহার শারীরিক সমস্যা নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এটিকে গুরুতর চোট হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে তার ডান উরুতে অস্বস্তির কথা জানানো হয়েছে। তাই তিনি কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন, পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না কিংবা ক্লাব ফুটবলে তার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এসব বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা মূল্যায়নের পর তার অবস্থার বিস্তারিত জানা যেতে পারে। ব্রাজিলের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাফিনহা দলটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় এবং সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের পরিকল্পনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাফিনহার ওপর ম্যাচের চাপ। প্রথম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলেছিলেন। এরপর মাত্র চার দিনের ব্যবধানে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আবারও শুরুর একাদশে ছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথমার্ধেও তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং পেনাল্টি থেকে গোল করেন। এরপর ডান উরুতে অস্বস্তি অনুভব করায় তাকে তুলে নেওয়া হয়। এক ম্যাচে পুরো সময় খেলার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার মাঠে নামার বিষয়টি শারীরিক চাপের আলোচনায় এসেছে। তবে তার বর্তমান সমস্যার সরাসরি কারণ হিসেবে ম্যাচের চাপকে নিশ্চিতভাবে দায়ী করা হয়নি। তাই চিকিৎসা মূল্যায়নের ফল না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে অনুমান না করাই যুক্তিযুক্ত।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচের পর ব্রাজিলের সামনে রয়েছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচি। সেই ম্যাচগুলোতে রাফিনহা মাঠে থাকবেন কি না, তা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রাজিলের আক্রমণভাগে রাফিনহার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং ও গোল করার সক্ষমতা দলের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে রাফিনহা মাঠ ছাড়ার পরও ব্রাজিলের আক্রমণ থেমে থাকেনি এবং দল শেষ পর্যন্ত ৪–২ গোলের জয় পেয়েছে। এখন মূল বিষয় হলো, ডান উরুর এই অস্বস্তি কতটা গুরুতর এবং রাফিনহা কত দ্রুত সম্পূর্ণ ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে পারেন। তার পরবর্তী মেডিকেল মূল্যায়নই এ বিষয়ে সবচেয়ে পরিষ্কার ধারণা দেবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!