বিয়ে শুধু দুটি মানুষের সম্পর্ক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভবিষ্যৎ পরিবার ও সন্তানের স্বাস্থ্যও। তাই বিয়ের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেওয়া অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়াতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে বংশগত রোগ, সংক্রমণ, রক্তের গ্রুপের সমস্যা ও প্রজননস্বাস্থ্যের বিষয়গুলো সম্পর্কে আগে থেকে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তের গ্রুপ ও আরএইচ ফ্যাক্টর পরীক্ষা
বিয়ের আগে বর-কনের রক্তের গ্রুপ এবং আরএইচ (Rh) ফ্যাক্টর জানা ভালো। বিশেষ করে নারীর রক্তের গ্রুপ যদি Rh নেগেটিভ এবং পুরুষের Rh পজিটিভ হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ গর্ভাবস্থায় কিছু জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসায় এসব সমস্যা প্রতিরোধের ব্যবস্থা রয়েছে।
থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং
বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বংশগত রক্তরোগ। বর ও কনে দুজনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে ভবিষ্যৎ সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া বাহক পরীক্ষা (যেমন Hb electrophoresis বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা) করা গুরুত্বপূর্ণ।
হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা
হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস লিভারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্যের শরীরে ছড়াতে পারে। তাই বিয়ের আগে এসব ভাইরাসের পরীক্ষা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
এইচআইভি পরীক্ষা
এইচআইভি একটি সংক্রমণজনিত রোগ, যা সঠিক সময়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিয়ের আগে উভয়ের সম্মতিতে এই পরীক্ষা করা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ পরীক্ষা
অনেক সময় ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা শুরু হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন লক্ষণ দেখা যায় না। তাই বিয়ের আগে রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা
যাদের আগে থেকেই মাসিক অনিয়ম, হরমোনজনিত সমস্যা, যৌনস্বাস্থ্য সমস্যা বা সন্তান ধারণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ রয়েছে, তারা বিয়ের আগে গাইনি বা ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা যেতে পারে।
জেনেটিক রোগের পারিবারিক ইতিহাস জানা
পরিবারে যদি কোনো বংশগত রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে বিয়ের আগে বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।
টিকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা
বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা ভালো। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের পরিকল্পনার আগে রুবেলা টিকার মতো কিছু টিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানে কোনো ব্যক্তিকে বিচার করা নয়; বরং দুজনের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার একটি সচেতন পদক্ষেপ। পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!