সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর ছবিসহ আইডি কার্ড ও ডাটাবেইজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রেখে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়ানো, শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল করার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার সার্বিক দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। এ দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বিদ্যালয় গমনোপযোগী সব শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে শিশু বান্ধব পরিবেশ ও অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত তিন বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ হাজার ৩২৩টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতন করে তোলা এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত অর্থবছরে ১৮ হাজার ৪১৭টি নলকূপ স্থাপন ও ২৭ হাজার ১৮৬টি ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত অনুপাত নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরে ৪০ হাজার ৭১ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আরও ৭ হাজার ৫০০ জন শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে চার রঙে মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্য সব শিক্ষার্থীর মা বা অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (এসএলআইপি) বাস্তবায়নে প্রতিবছর বিদ্যালয়প্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। স্মার্ট শ্রেণি পাঠদান নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল সরবরাহের পাশাপাশি ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজও চলছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য নিয়মিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। ফুটবল খেলার উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজিটাল সেবাগুলোকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথাও জানানো হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত গড় উপস্থিতি ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টি এবং প্রতিটি ক্লাস্টারে একজন করে শারীরিক ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোকে পর্যায়ক্রমে এক শিফটে রূপান্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অবস্থানের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব শিক্ষার্থীর ছবিসহ আইডি কার্ড ও ডাটাবেইজ তৈরির উদ্যোগটি সিআরভিএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রেখেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে প্রাক-প্রাথমিক স্তর এক বছর থেকে দুই বছরে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিবেদনে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া কমানো, শতভাগ শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সম্পন্ন করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শ্রেণিকক্ষ-শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত অনুপাত নিশ্চিত করাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!