লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে রেকর্ডের তালিকা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এবার তাঁর সামনে যে মাইলফলক, সেটি এসেছে তাঁর অন্যতম পরিচিত অস্ত্র সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে। ইন্টার মায়ামির হয়ে কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচেও ব্যক্তিগতভাবে আলো ছড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে ডান দিকের অত্যন্ত কঠিন অবস্থান থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক সরাসরি জালে পাঠিয়ে তিনি নিজের ক্যারিয়ারে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোলের সংখ্যা ৭৬-এ নিয়ে যান। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেসি এখন শীর্ষে থাকা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি মার্সেলিনহো কারিয়োকার ৭৮ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র দুই গোল দূরে।

কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ম্যাচটিতে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল ইন্টার মায়ামি। জোসেফ মার্টিনেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই মেসির সামনে আসে ফ্রি-কিকের সুযোগ। সাধারণত এমন অবস্থান থেকে অনেক খেলোয়াড় বক্সের ভেতরে বল পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মেসি সরাসরি গোলের পথ বেছে নেন। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে তিনি বলকে দেয়ালের ওপর দিয়ে বাঁকিয়ে দূরের ওপরের কোণায় পাঠিয়ে দেন। গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্টের পক্ষে সেই শট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। গোলটি শুধু ইন্টার মায়ামিকে সাময়িকভাবে সমতায় ফেরায়নি, মেসিকেও নিয়ে গেছে ফ্রি-কিক গোলের ঐতিহাসিক তালিকায় আরও ওপরে।

এই গোলের আগে মেসির সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোলের সংখ্যা ছিল ৭৫। সেপ্টেম্বরে সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে গোল করে তিনি ৭৫-এ পৌঁছেছিলেন এবং তখনই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার জাইর রোসা পিন্টোর ৭৪ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন। তারও আগে মন্ট্রিয়ালের বিপক্ষে একই ম্যাচে দুটি ফ্রি-কিক গোল করেছিলেন মেসি। ফলে ২০২৬ সালেই সেট-পিস থেকে তাঁর গোলসংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। সর্বশেষ কলম্বাসের বিপক্ষে গোলটি সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে। এখন মেসির সামনে শীর্ষস্থান দখলের জন্য প্রয়োজন আরও তিনটি গোল, তবে প্রথম দুই গোলেই তিনি ৭৮-এ পৌঁছে বর্তমান রেকর্ডটি স্পর্শ করতে পারবেন।

বর্তমানে বহুল উদ্ধৃত ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে সবচেয়ে বেশি গোলের তালিকায় মার্সেলিনহো কারিয়োকা ৭৮ গোল নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন। মেসির গোল ৭৬, জাইর রোসা পিন্টোর ৭৪ এবং রবার্তো দিনামিতের ৭৩। জুনিনহো পারনামবুকানো ও সিনিশা মিহাইলোভিচ—দুজনের নামই ৭২ গোল নিয়ে পরের অবস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে সরাসরি ফ্রি-কিকের ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান বিভিন্ন সংস্থা বা পরিসংখ্যানবিদ কীভাবে ম্যাচ ও গোল শ্রেণিবদ্ধ করছেন, তার ওপর কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ৭৮ গোলের সংখ্যাটিকে বহুল ব্যবহৃত ঐতিহাসিক হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করাই বেশি নির্ভুল।

মেসির এই অর্জনের বিশেষত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকতার মধ্যেও রয়েছে। বার্সেলোনার হয়ে তাঁর সরাসরি ফ্রি-কিক গোলের সংখ্যা ৫০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আর্জেন্টিনা, প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি এই তালিকায় আরও গোল যোগ করেছেন। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পরও বয়সের সঙ্গে তাঁর ফ্রি-কিকের কার্যকারিতা কমেনি। বরং ২০২৬ সালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেট-পিস থেকে গোল করে তিনি আবারও দেখিয়েছেন, প্রতিপক্ষের বক্সের বাইরে ফাউল তাঁর জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। কলম্বাসের বিপক্ষে সর্বশেষ গোলটিও ছিল সেই দক্ষতার আরেকটি উদাহরণ।

তবে ব্যক্তিগত মাইলফলক পেলেও কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ম্যাচটির ফল ইন্টার মায়ামির পক্ষে যায়নি। মেসির ফ্রি-কিক গোলের পর ম্যাচ ১-১ অবস্থায় ছিল। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে জামাল থিয়ারে গোল করে কলম্বাসকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন। ফলে মেসির ৭৬তম ফ্রি-কিক গোল দলকে পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি। তবুও ব্যক্তিগতভাবে এই গোলটি তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান যোগ করেছে। একই সঙ্গে তাঁর মোট ক্যারিয়ার গোলসংখ্যাও ৯৩১-এ পৌঁছেছে বলে বেইন স্পোর্টসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন মেসির সামনে সরাসরি ফ্রি-কিকের ইতিহাসে শীর্ষে ওঠার সম্ভাব্য মাইলফলক। ৭৭তম গোল করলে তিনি রেকর্ডের আরও কাছে যাবেন, ৭৮তম গোল করলে মার্সেলিনহো কারিয়োকার সঙ্গে সমতায় পৌঁছাবেন এবং ৭৯তম সরাসরি ফ্রি-কিক গোল করলে বহুল উদ্ধৃত এই তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠবেন। মেসির সাম্প্রতিক ফ্রি-কিক ফর্মের কারণে সেই সংখ্যাগুলো এখন তাঁর ক্যারিয়ারের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যে সেট-পিস থেকে নিয়মিত পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন, কলম্বাসের বিপক্ষে গোলটি তারই আরেকটি প্রমাণ। ইতিহাসের রেকর্ড থেকে এখন ব্যবধান মাত্র দুই—আর সেই দুই গোলই মেসির ফ্রি-কিক অধ্যায়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!