নওগাঁয় বাসচালক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তজেলা ও অভ্যন্তরীণ কয়েকটি রুটে বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালেও শহরের বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছেড়ে যায়নি। এতে কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বাসের পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করতে দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শহরের পার-নওগাঁ এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনালে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে মহন্ত পরিবহনের এক বাসচালক ও তাঁর সহকারীর কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই দিন দুপুরে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচালক রুবেল হোসেন ও তাঁর সহকারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাসচালক রুবেল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় তাঁকে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাসচালক ও তাঁর সহকারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে নওগাঁ-রাজশাহী, নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ-জয়পুরহাট ও নওগাঁ-বগুড়া রুটসহ অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা কয়েকটি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রাখে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে এসব সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মণ্ডল বলেন, বাসস্ট্যান্ডে কথা-কাটাকাটির জের ধরে নজিপুরে বাস ও অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার কারণে বাস চলাচল বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাস শ্রমিকেরা সড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে দিচ্ছেন না। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, বাসচালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে রোববার পুলিশ সুপারের সঙ্গে বাস মালিক-শ্রমিক এবং অটোরিকশা চালকদের সংগঠনের নেতাদের বৈঠক হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম জানান, বাসচালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি মহাসড়কে অটোরিকশাসহ সব ধরনের তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ রাখার দাবিও রয়েছে তাঁদের।
এদিকে বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন যাত্রী। দুই পক্ষের বিরোধের কারণে দ্বিতীয় দিনেও যান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!