রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বহনকারী বিমান নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে না পারায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন চিত্রনায়ক সোহেল রানা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তান হাইকমিশনের উদ্দেশে তিনি জানতে চান, রূপপুরের জন্য ইউরেনিয়াম নিয়ে আসা রাশিয়ার কার্গো বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি—এমন তথ্যের সত্যতা কতটা।

পোস্টে সোহেল রানা লেখেন, ‘পাকিস্তান হাইকমিশন, সত্যিকারভাবে জানতে চাই যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য যে ইউরেনিয়াম নিয়ে রাশিয়ান প্লেন আসার কথা ছিল, তাকে নাকি আপনারা পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করার জন্য অনুমতি দেননি। কথার সত্যতা জানাবেন।’

এরপর তিনি লেখেন, ‘পাস কাটিয়ে গেলে আমাদের উত্তর খুব সুখবর হবে না।’ তাঁর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী জানান, পাকিস্তান কেন ওই বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনো বাংলাদেশ জানতে পারেনি। ইউরেনিয়াম পরিবহনের নতুন সময়সূচি নিয়ে কাজ চলছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানিটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত দিনে ইউরেনিয়ামবাহী বিমান গ্রহণের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। পরে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার কাছ থেকে আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতার বিষয়টি জানা যায়।

তবে কোন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি বা সেই অনুমতি না পাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ কী—এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রোসাটমের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির ইউনিট রয়েছে। দুই ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানির এই চালান নির্ধারিত সময়ে না আসার পর নতুন সময়সূচি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের কাছে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা চাইলেন সোহেল রানা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!