নতুন প্রজন্মের Hyundai Tucson নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা Hyundai। ২০২৭ মডেল ইয়ারের জন্য পঞ্চম প্রজন্মের Tucson-এ বাহ্যিক নকশার পাশাপাশি কেবিন, প্রযুক্তি, যাত্রী আরাম এবং ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের Pleos Connect ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক Gleo AI যুক্ত হওয়ার কারণে গাড়িটির প্রযুক্তিগত দিকটি এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। Hyundai জানিয়েছে, নতুন Tucson ও Tucson Hybrid ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রাথমিক বাজারগুলোতে উন্মোচন করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত একটি মিডিয়া ইভেন্টে নতুন Tucson-এর গাড়ি সরাসরি প্রদর্শন করা হয়েছে। এর আগে গাড়িটির নকশা ছবি ও বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলেও এবারের প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা নতুন মডেলটির বাইরের নকশার পাশাপাশি ভেতরের কেবিনও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।
নতুন Tucson-এর অভ্যন্তরীণ নকশায় সরলতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেবিনে আগের তুলনায় কম শারীরিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও প্রয়োজনীয় কিছু ফিজিক্যাল বাটন রাখা হয়েছে, যাতে গাড়ি চালানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। Hyundai-এর নতুন Pleos Connect প্ল্যাটফর্মও এই গাড়ির প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে।
Pleos Connect মূলত Hyundai Motor Group-এর নতুন প্রজন্মের ইন-ভেহিকল ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা। এটি Android Automotive OS-এর ভিত্তিতে তৈরি এবং এর মাধ্যমে গাড়ির নেভিগেশন, বিনোদন, অ্যাপ ও বিভিন্ন গাড়ি-নিয়ন্ত্রণ সুবিধাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিবেশে আনার পরিকল্পনা করেছে Hyundai। সিস্টেমটিতে মাল্টি-উইন্ডো সুবিধা, ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী প্রোফাইল এবং ওভার-দ্য-এয়ার বা OTA সফটওয়্যার আপডেটের সুবিধা রয়েছে।
নতুন Tucson-এ Pleos Connect-এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে Gleo AI। এটি Hyundai-এর বৃহৎ ভাষা মডেলভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট। চালক স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলে নেভিগেশন, গাড়ির বিভিন্ন ফাংশন, গন্তব্য খোঁজা কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য জানার মতো কাজ করতে পারবেন। Gleo AI একাধিক নির্দেশ একসঙ্গে বুঝতে পারে এবং গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
Hyundai-এর তথ্য অনুযায়ী, Gleo AI শুধু ভয়েস কমান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রসঙ্গ বুঝে নির্দেশনা গ্রহণ করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়েব সার্চের মাধ্যমেও খবর, আবহাওয়া বা খেলাধুলার মতো তথ্যের উত্তর দিতে পারে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে এর সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
নতুন Tucson-এর কেবিনে বড় ডিসপ্লের ব্যবহারও নজর কাড়ছে। বিভিন্ন প্রাক-লঞ্চ তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিনের আকার বাজার ও সংস্করণভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে Pleos Connect-এর মূল ধারণা হচ্ছে বড় কেন্দ্রীয় স্ক্রিনের পাশাপাশি চালকের সামনে একটি সরু ডিসপ্লে রাখা, যেখানে গতি, নেভিগেশন ও প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং তথ্য সহজে দেখা যাবে।
যাত্রী আরামের ক্ষেত্রেও নতুন Tucson-এ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পেছনের সারিতে অতিরিক্ত জায়গা, দরজায় সমন্বিত সানশেড এবং মাঝখানে কাপহোল্ডারসহ ভাঁজযোগ্য আর্মরেস্টের মতো সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে বলে নতুন গাড়িটির প্রদর্শনী থেকে জানা গেছে। পেছনের আসন ভাঁজ করে অতিরিক্ত মালপত্র রাখার জায়গাও বাড়ানো যাবে।
গাড়িটির বহিরাগত নকশায়ও এসেছে পরিবর্তন। বিশেষ করে নতুন Tucson XRT সংস্করণটি অফ-রোড ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে নতুন ফ্রন্ট ফ্যাসিয়া, বেশি উচ্চারণ করা বডি ক্ল্যাডিং, অল-টেরেইন ধরনের টায়ার এবং স্কিড প্লেটের মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে XRT সংস্করণটি শুধু বাহ্যিকভাবে কালো ট্রিম বা বড় টায়ার যুক্ত একটি সাধারণ ভ্যারিয়েন্ট নয়, বরং আলাদা ডিজাইন বৈশিষ্ট্য নিয়েই তৈরি করা হয়েছে।
Hyundai নতুন Tucson-এর নকশায় তাদের Art of Steel ডিজাইন দর্শনও ব্যবহার করছে। গাড়িটির সামনের অংশ, বডির ভাঁজ এবং সাইড ক্ল্যাডিংয়ে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। XRT সংস্করণে এই নকশা আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
নতুন গাড়িটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে Hyundai-এর বৃহত্তর সফটওয়্যারভিত্তিক গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা। প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে প্রচলিত গাড়ির ধারণা থেকে Software-Defined Vehicle বা SDV-এর দিকে এগোচ্ছে। এর অর্থ হলো গাড়ি বাজারে আসার পরও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে নতুন ফিচার, উন্নত সেবা ও বিভিন্ন কার্যকারিতা যুক্ত করা সম্ভব হবে। Hyundai জানিয়েছে, Pleos Connect এই রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি।
Pleos Connect-এর মাধ্যমে গাড়িতে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। Hyundai-এর App Market-এ YouTube, Spotifyসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের Hyundai গাড়িগুলো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং সফটওয়্যার ও অনলাইন সেবার একটি সংযুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে।
নতুন Tucson-এর ইঞ্জিন, হাইব্রিড প্রযুক্তি, বাজারভেদে ট্রিম, দাম ও সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন সব দেশে একই হবে না। Hyundai ইতোমধ্যে জানিয়েছে, নতুন Tucson এবং Tucson Hybrid পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বাজারে আসবে এবং প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে কিছু বাজারে এর যাত্রা শুরু হবে।
সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের Tucson-এ Hyundai শুধু গাড়িটির চেহারা বদলাচ্ছে না, বরং গাড়ির ভেতরের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাকেও নতুনভাবে সাজাচ্ছে। বড় ডিসপ্লে, Pleos Connect, Gleo AI, OTA আপডেট, অ্যাপভিত্তিক সেবা এবং XRT-এর মতো আলাদা অফ-রোড সংস্করণ মিলিয়ে ২০২৭ Tucson Hyundai-এর নতুন সফটওয়্যারনির্ভর গাড়ি তৈরির পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হয়ে উঠছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!