জিম্বাবুয়ে নারী ক্রিকেট দল আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এই মাইলফলক অর্জন করে স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় তারা। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৩৯ রানে অলআউট করে জিম্বাবুয়ে। এরপর ৪০.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা। এই জয় শুধু সিরিজ সমতায় ফেরায়নি, বরং নারী চ্যাম্পিয়নশিপে জিম্বাবুয়ের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ম্যাচে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ক্যারিবীয় দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ৩৯.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৯ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে Nyasha Gwanzura বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র ৩৩ রান খরচ করে তিনি ৪টি উইকেট শিকার করেন। তার সঙ্গে Michelle Mavunga-ও কার্যকর বোলিং করেন এবং ৩টি উইকেট তুলে নেন। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায় এবং জিম্বাবুয়ের সামনে জয়ের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট লক্ষ্য দাঁড়ায়।
১৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়েকেও খুব সহজে জয় পেতে দেয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। স্বাগতিক দল নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারালেও রান তোলার গতি ধরে রাখে। জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে Modester Mupachikwa গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ৩৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। অধিনায়ক Josephine Nkomo-ও ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন এবং ৩০ রান করেন। দুজনের অবদানে জিম্বাবুয়ের রান তাড়া করার ভিত শক্ত হয়। মাঝের দিকে কয়েকটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও স্বাগতিক ব্যাটাররা লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করে তারা ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শেষ দিকে Nyasha Gwanzura ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার পর তিনি ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ১৮ রান করে দলকে জয় পর্যন্ত নিয়ে যান। ৪০.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। ফলে ৪ উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। এই ফলাফল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ১-১ সমতায় ফিরিয়ে আনে। প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৯ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিম্বাবুয়ে দেখিয়ে দেয় নিজেদের সামর্থ্য। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে সম্মিলিত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত তাদের জয়ের প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে।
এই জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপে এটি জিম্বাবুয়ের প্রথম জয়। ২০২৫ থেকে ২০২৯ চক্রে জিম্বাবুয়ে এই প্রতিযোগিতায় নতুন দল হিসেবে যুক্ত হয়েছে। মোট ১১টি দল নিয়ে আয়োজিত এই চক্রে প্রতিটি ম্যাচই দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিযোগিতাটি ২০২৯ নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথের সঙ্গে যুক্ত। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাওয়া এই জয় জিম্বাবুয়ের জন্য কেবল একটি ওয়ানডে ম্যাচের ফল নয়। এটি তাদের আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপ জয় দিয়ে জিম্বাবুয়ে এখন প্রতিযোগিতায় আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে জিম্বাবুয়ের বোলিং পারফরম্যান্স সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৩৯ রানে আটকে দেওয়া তাদের জন্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। Gwanzura-র ৪ উইকেট এবং Mavunga-র ৩ উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপকে বড় সংগ্রহ থেকে দূরে রাখে। এরপর রান তাড়ায় Mupachikwa ও Nkomo-র ব্যাটিং দলকে স্থিরতা দেয়। শেষ দিকে Gwanzura-র অপরাজিত ১৮ রান জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। পুরো ম্যাচে জিম্বাবুয়ের পারফরম্যান্সে বোলিং, ব্যাটিং এবং চাপ সামলানোর সমন্বয় দেখা যায়। সেই কারণেই ১৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ শেষ করতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায় রয়েছে। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ঘুরে দাঁড়ানো সিরিজকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। এখন ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় ওয়ানডে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সিরিজের ফলাফলের বাইরে জিম্বাবুয়ের জন্য দ্বিতীয় ম্যাচের জয় আলাদা গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এটিই আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপে তাদের প্রথম জয়। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে পাওয়া এই ঐতিহাসিক সাফল্য জিম্বাবুয়ের নারী ক্রিকেটের জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। নতুন চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে প্রথম জয় পাওয়ার পর জিম্বাবুয়ে এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!