হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন তেলমাছড়া বন বিটের ভিলেজার পাড়া এলাকা থেকে সেগুন ও আকাশমণি গাছের প্রায় ২০ বান্ডিল জ্বালানি কাঠ জব্দ করেছে বন বিভাগ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর বন বিট কাম চেক স্টেশনের কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে এসব কাঠ জব্দ করে। পরে জব্দকৃত কাঠ জগদীশপুর বন বিট কার্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তেলমাছড়া বন বিটের ভিলেজার পাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে জব্দ করা কাঠ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে তেলমাছড়া বন বিট এলাকায় বন বিভাগের তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বনাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ রাতের আঁধারে গাছ ও বাঁশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বাঁশ কেটে জ্বালানি কাঠ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বনজ সম্পদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সহযোগিতার অভিযোগও তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সচেতন স্থানীয়দের মতে, সাতছড়ি বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা, কাঠ পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, বনাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, কাঠ পরিবহনের পথগুলোতে তল্লাশি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুললে বনজ সম্পদ রক্ষায় তা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জব্দ করা কাঠের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তদন্ত শেষে জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!