লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক সোহাগ মিঝি হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাত থেকে আট মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনেরা। এ সময় নবজাতক নাতিকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিচার দাবি করেন সোহাগের মা শাহিনুর বেগম।

নিহত সোহাগ মিঝি রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের লালগাজী মিঝি বাড়ির তাজুল ইসলাম মিঝির ছেলে। তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর। পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর প্রায় আট থেকে নয় মাস আগে তিনি প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। এরপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তাঁর স্ত্রী তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের সময় গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহাগ। দিনভর ভোটার আনা-নেওয়ার কাজ করার পর সন্ধ্যার দিকে মুঠোফোনে মাকে রাতে খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেন। এরপর তাঁর সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

রাতে সোহাগ বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে সন্ধান চালিয়েও তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে পরে রায়পুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন স্বজনেরা।

এর দুই দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার পাটোয়ারী রাস্তার মাথা এলাকায় রেয়ার মডেল দাখিল মাদ্রাসার সামনে একটি জমিতে সেচ দেওয়ার সময় এক কৃষক বালুর নিচে মানুষের পায়ের তিনটি আঙুল দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বালু সরিয়ে সেখান থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে সোহাগের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে পারিবারিকভাবে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নিহতের মা শাহিনুর বেগম ও বাবা তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সোহাগকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পর তাঁর মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় মুরাদ, আরাফাত, শাহিন ও রাব্বিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর আসামিপক্ষের লোকজন তাঁদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এ কারণে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন। তবে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে কারা জড়িত এবং তা কতটা সত্য, সেটি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়।

সংবাদ সম্মেলনে সোহাগের মা শাহিনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁর ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাঁদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। ছেলের রেখে যাওয়া পুত্রসন্তানের কথা তুলে ধরে তিনি দ্রুত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার আকুতি জানান।

নিহতের স্বজনেরা বলেন, সোহাগ হত্যার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু তারেক বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের বলেও জানান তিনি।

সোহাগের পরিবার এখন হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। বিশেষ করে নিহতের রেখে যাওয়া শিশুর ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনেরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!