মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযান চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চাইলে শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায় না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স। তাই যারা মোটরসাইকেল এবং হালকা মোটরযান—দুই ধরনের যানবাহন চালানোর জন্য লাইসেন্স করতে চান, তাদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরি নির্বাচন করে শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের আবেদন করতে হবে।
বিআরটিএর বর্তমান নাগরিক সনদে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য মোটরসাইকেল, হুইলার এবং হালকা মোটরযানের ক্যাটাগরি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি ক্যাটাগরির জন্য ৫১৮ টাকা এবং যেকোনো দুই ক্যাটাগরির জন্য ৭৪৮ টাকা ফি নির্ধারিত থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে গেটওয়ে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় বিএসপি অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত বর্তমান ফি দেখে পেমেন্ট করা উচিত।
মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযান—দুই ক্যাটাগরির জন্য লার্নার লাইসেন্স করতে চাইলে আবেদনকারীকে বিএসপিতে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করতে হবে। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল অনুযায়ী, বিএসপিতে নিবন্ধনের সময় জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়। মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে।
আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে রাখা জরুরি। বিআরটিএর নাগরিক সনদে নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, প্রয়োজন অনুযায়ী বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ এবং ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদের কথা উল্লেখ রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা আলাদা হলে ইউটিলিটি বিল অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্য ঠিকানার প্রমাণক দিতে হতে পারে।
আবেদনকারীকে প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কোন দুই ক্যাটাগরির জন্য লার্নার লাইসেন্স চান। যদি মোটরসাইকেল এবং হালকা মোটরযান—দুই ধরনের যানবাহনের জন্য আবেদন করা হয়, তাহলে দুই ক্যাটাগরির লার্নার লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হবে। তবে আবেদন করার সময় পোর্টালে প্রদর্শিত ক্যাটাগরি ও ফি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা হলো, প্রাথমিক আবেদন ও ফি প্রদানের জন্য সরাসরি বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। বিআরটিএর অফিসিয়াল পোর্টালে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, লাইসেন্স নবায়ন এবং ডুপ্লিকেট লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার আবেদন ও অনলাইনে ফি প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। একই পোর্টালে ফি ক্যালকুলেটর এবং পেমেন্ট যাচাইয়ের সুবিধাও রয়েছে।
ফি দেওয়ার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীকে সতর্ক থাকতে হবে। বিআরটিএর নাগরিক সনদে অনলাইন পেমেন্টের জন্য মাস্টারকার্ড, ভিসা কার্ড, নেক্সাস কার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ফি দেওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। অনলাইনে ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজের বিএসপি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পেমেন্ট করার কথা বলা হয়েছে।
আবেদন ও ফি পরিশোধের পর লার্নার লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর সাধারণত দুই থেকে তিন মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নির্ধারিত তারিখ, সময় ও কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক এবং ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হয়। পরীক্ষার সময় আবেদনকারীকে লার্নার লাইসেন্সের মূল কপি সঙ্গে রাখতে হয়।
মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযানের দুই ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করলে পরীক্ষার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট যানবাহন চালানোর দক্ষতা দেখাতে হবে। তাই শুধু অনলাইনে আবেদন করলেই লাইসেন্স পাওয়া যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। লার্নার লাইসেন্স নেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং নির্ধারিত দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বিআরটিএর বিএসপি পোর্টালেই ড্রাইভিং দক্ষতা পরীক্ষার ফলাফল দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরবর্তী আবেদন করতে হয়। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যায়ে আবেদনকারীর ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে তা গ্রহণের বিষয়ে জানানো হয়।
এখানে আবেদনকারীদের একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। বিআরটিএর বিভিন্ন ওয়েবপেজে লার্নার লাইসেন্সের ফি সংক্রান্ত পুরোনো ও নতুন তথ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। তাই পুরোনো কোনো পোস্ট, ভিডিও বা ওয়েবসাইট দেখে নির্দিষ্ট টাকা জমা না দিয়ে আবেদন করার সময় নিজের বিএসপি অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত বর্তমান ফি এবং বিআরটিএর সর্বশেষ নাগরিক সনদ অনুসরণ করা নিরাপদ। বর্তমান বিআরটিএ নাগরিক সনদে দুই ক্যাটাগরির জন্য ৭৪৮ টাকা উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ, মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযান—দুই ধরনের যানবাহনের জন্য লার্নার লাইসেন্স করতে চাইলে প্রথমে নিজের নামে বিএসপি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র দিয়ে দুই ক্যাটাগরি নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে এবং পোর্টালে প্রদর্শিত নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রশিক্ষণ নিয়ে নির্ধারিত লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী ধাপে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!