ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই নরওয়ের বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ এ৪-এর ম্যাচে রোববার ওসলোতে নরওয়েকে ২–১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগিজরা। ম্যাচের শুরু থেকেই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল রোনালদোর অনুপস্থিতি। পর্তুগালের বেঞ্চে থাকলেও পুরো ৯০ মিনিট তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। অর্থাৎ দলের জয়ে অবদান রাখার সুযোগ পাননি পর্তুগালের অধিনায়ক। অন্যদিকে রোনালদোবিহীন আক্রমণভাগ সামলে পর্তুগাল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে কার্যকর ফুটবল খেলেছে। নরওয়ের ঘরের মাঠে জয় পাওয়ায় নেশনস লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে পর্তুগাল।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। তবে প্রথম বড় সাফল্য আসে পর্তুগালের কাছ থেকে। ১৭তম মিনিটে জোয়াও ফেলিক্স দুর্দান্ত এক শটে নরওয়ের জালে বল পাঠিয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। এই গোলের মাধ্যমে নেশনস লিগের এবারের আসরে ফেলিক্সের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় দুইয়ে। গোল পাওয়ার পরও পর্তুগাল নিজেদের রক্ষণভাগ গুছিয়ে রেখে নরওয়ের আক্রমণ সামলাতে থাকে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে নরওয়ে। ম্যাচের প্রথমার্ধে পর্তুগাল লিড ধরে রাখলেও নরওয়ের আক্রমণে বারবার চাপ তৈরি হচ্ছিল।

নরওয়ের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন এরলিং হালান্ড। প্রথমার্ধেই গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। ১৩তম মিনিটে তাঁর নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা। এরপরও হালান্ড একাধিকবার পর্তুগালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। ২৩তম মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের ক্রস থেকে হালান্ড আবারও গোলের কাছাকাছি চলে যান। তাঁর প্রচেষ্টা গোলের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু রুবেন দিয়াশ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দুর্দান্ত ব্লক করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন। ফলে প্রথমার্ধে নরওয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও পর্তুগালের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সমতা ফেরাতে পারেনি। বিরতিতে ১–০ ব্যবধানেই এগিয়ে ছিল পর্তুগাল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫১তম মিনিটে নরওয়ের হয়ে সমতাসূচক গোল করেন হালান্ড। এর মাধ্যমে ম্যাচে আবারও উত্তেজনা ফিরে আসে এবং দুই দলের ব্যবধান শূন্যে নেমে আসে। কিন্তু নরওয়ের সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েক মিনিট পরই পর্তুগাল আবার এগিয়ে যায়। ৫৪তম মিনিটে গোল করেন গনসালো রামোস। পর্তুগালের আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বল নরওয়ের জালে পাঠান। ফলে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই দল একবার করে গোল করে এবং শেষ পর্যন্ত রামোসের গোলটিই পর্তুগালকে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে রাখে।

এই ম্যাচে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল রোনালদোর পুরো ম্যাচ বেঞ্চে থাকা। ম্যাচ শুরুর আগে তাঁকে একাদশে রাখা হয়নি এবং অনেকেই ধারণা করেছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে মাঠে নামানো হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত Portugal-এর কোচ Jorge Jesus কোনো সময়ই তাঁকে মাঠে নামাননি। এর ফলে রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে কাটান। এর আগে ওয়েলসের বিপক্ষে নেশনস লিগের প্রথম ম্যাচে তিনি খেলেছিলেন এবং সেই ম্যাচে পর্তুগাল ১–০ গোলে জয় পেয়েছিল। রোনালদোর বিশ্রাম নিয়ে ম্যাচের আগে জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি পুরো ম্যাচেই কার্যকর থাকে।

রোনালদো মাঠে না থাকলেও পর্তুগালের আক্রমণ থেমে থাকেনি। জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোস নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে হালান্ড গোল করলেও তাঁর দল ম্যাচ থেকে পয়েন্ট নিতে পারেনি। বিশেষ করে পর্তুগালের রক্ষণভাগ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়েছে। দিয়োগো কোস্তার সেভ এবং রুবেন দিয়াশের গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ম্যাচের ফল ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে রোনালদোর অনুপস্থিতিতে পর্তুগালের দলীয় পারফরম্যান্সই হয়ে ওঠে ম্যাচের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

এই জয়ের মাধ্যমে নেশনস লিগের গ্রুপ এ৪-এ পর্তুগাল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেল। এর আগে প্রথম ম্যাচে ওয়েলসকে ১–০ গোলে হারিয়েছিল তারা। অন্যদিকে নরওয়েও প্রথম ম্যাচে ডেনমার্ককে ৩–২ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল। তাই ওসলোতে দুই দলের লড়াই ছিল গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত হালান্ডের গোল সত্ত্বেও জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোসের গোলের কারণে ২–১ ব্যবধানে জয় পায় Portugal। আর ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনায় থেকে গেলেন রোনালদো—কারণ দলের সঙ্গে বেঞ্চে থাকলেও পুরো ম্যাচে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামেননি পর্তুগালের এই মহাতারকা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!